তা দেখা যায়। সকল মানুষের মনেই স্বতঃই ভগবান সম্বন্ধে যেরূপ ধারণা, তাহা এই সম্বন্ধ দিয়াই সর্ব্বাপেক্ষা সহজে, আমাদের ঈশ্বরের সহিত সম্বন্ধ ভাল করিয়া বুঝান যায়। ভাই বা বোনের সঙ্গে, স্ত্রী বা পুত্র কন্যার সঙ্গে, এমন কি পিতার সঙ্গেও সে ভাব এতটা নাই। পিতার কথা মনেও আসিলে যেন কতকটা ভয় মাখান গুরু মহাশয়ের কথা মনে আসে। কিন্তু মার কথা মনে হলে, অসহায় শিশু অবস্থার মত কেবলই ভালবাসা ও ভক্তি। সেই ভাবই যথার্থ ধর্ম্মভাব আর সব ভাবই কেবল যাজকের লোকঠকান বিধান।
মন্দিরের নীচের তলার ঘরে বিবি সন্ন্যাসিনীরা নানারূপ পূজার উপযোগী জিনিস বেচিতেছেন। পিতলের বা রূপার ক্রুস, বা নাম জপ করিবার স্ফটিকের মালা, মন্দিরে জ্বালাইবার জন্য, মোমের বাতি বা ধূপ-ধুনা। দোতালাতে মন্দির। তার সিংহদ্বার খুলিয়া ভিতরে ঢুকিলেই ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়া যায়। তাতে অনেক রকম ধূপ ধুনা ও বাতি জ্বলে। উপরে খিলানের উপর খিলান চড়িয়া ছাত নির্ম্মাণ করিয়াছে। তার সব স্থানেই মূর্ত্তি চিত্রিত। দেয়ালেও নানারূপ বাইবেল সম্বন্ধীয় চিত্র আঁকা। কোণে কোণে প্রস্তরমূর্ত্তি। সম্মুখেও আবার সেই “শিশু যিশু কোলে কুমারী মেরী” উপবিষ্টা; ফুল ও মালা দিয়া শোভিতা। সামনেই বেদী, সেই স্থান হইতেই পুরোহিত স্তব পাঠ করেন। আর যজমানেরা দূরে দূরে থাকিয়া হাঁটু গাড়িয়া, জোড়হাত করিয়া স্তোত্র পড়িতে পড়িতে পূজা করেন। দেওয়ালে রঙ্গিণ কাঁচের জানালার ভিতর দিয়া নানা রঙ্গের আলো আসিয়া কি গম্ভীর ভাব আনে।
মন্দিরের বাহির হইতে চারিদিকে দেখিলে এক অপূর্ব্ব দৃশ্য দেখা যায়। এক ধারে অপার জলধি বিস্তৃত, অপর দিকে কেবলই উঁচু নীচু জমিযুক্ত গাছপালা ও তার মাঝে ঢালু ছাতের বাড়ীর সারি, কলকারখানা ও ভজনালয়ের উঁচু চূড়া। গেলবারকার প্রবন্ধে যে দ্বীপটিতে