বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৮
বিলাত ভ্রমণ

নেপোলিয়ন বাস করিতেন বলিয়াছিলাম, সে দ্বীপটিও বেশ দেখা যায়। এই স্থানে বহু পূর্ব্বে গ্রীস্ দেশের উপনিবেশ ছিল। “মণ্টিকৃষ্ট” নভেলের লীলাভূমি সেই দ্বীপটিও এখান হইতে নীল জলের উপর ভাসমান দেখা যায়। নিকটেই একটি উঁচুসাঁকো, সেটির উপর দিয়া সোজা পথে গাড়ী নৌকা লোক জন ইত্যাদি পারাপার করে। বহুদূরে “প্যালেডিলঙ্গ চম্পের” উচ্চ বাড়ীটিও দেখা যায়।

 সেখান হইতে নামিয়া আসিয়া আমরা সমস্ত সহরটি প্রদক্ষিণ করিবার মানসে বৈদ্যুতিক ট্রাম গাড়ীতে চড়িলাম। এখানে ট্রামভাড়া বড়ই সস্তা, দু’ পয়সা খরচ করিলেই সমুদ্রের ধার দিয়া সমস্ত পথটি ঘুরা যায়। তার যে কি শোভা তা বর্ণনায় বুঝান যায় না। চওড়া চওড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তার একধারে সুন্দররূপে সাজান গাড়ীগুলি যেন ছবির মত সারি দিয়া দাঁড়াইয়া আছে, অপর দিকে সমুদ্র। রাস্তার মাঝে ও রাস্তার ধারে সুন্দর গাছ পালায় সুশোভিত বাগান। মধ্যে মধ্যে থিয়েটারের রঙ্গমঞ্চ, সেগুলি সব গ্রীষ্মকালে বন্ধ থাকে, শীত কালেই তার জনতা। আর অনেকগুলি ষাঁড়ের লড়াই করিবার আড্ডা আছে। সে নিষ্ঠুর খেলা—ইংলণ্ডে আইন বিরুদ্ধ, কিন্তু ফরাসী ও স্পেন প্রভৃতি দেশে তাহা এখনও প্রচলিত আছে। সমুদ্রের ধারে ধারে অবগাহন করিবার ও সাঁতার শিখিবার ঠাঁই। সমুদ্রে পাঁচির দিয়া খানিক ঘেরা আছে,—তার ভিতর ঢেউ কম ঢুকে। সেইখানেই সাঁতার দিবার স্থান। প্রায় উলঙ্গের মত ছোট ছোট পাজামা পরিয়া নামিতে হয়। সাঁতার শিখিবার জন্য নৌকা মোতায়ান আছে। সাঁকোতে শিকল আছে। সোলানির্ম্মিত ভাসিবারও যন্ত্র আছে। আড়াআড়ি দিয়া বাছ খেলিবার বোট আছে। পাশেই ঘেরা, কাপড় পরিবার ঘর ও জলপান করিবার জায়গা। মেয়ে পুরুষে একত্র স্নান করে। তাই জনতার সীমা নাই।

 এই মনোরম স্থানেরই উঁচু উঁচু পাহাড়ের উপর ভাল ভাল হোটেল