দণ্ডায়মানা। এই রমণীটিই ফরাসী দেশের সাধারণ তন্ত্রের দেবতা। আর তাঁহার পার্শ্বস্থিত রমণীদ্বয়ের মধ্যে একটি “ন্যায়ের” ও অপরটি “দয়ার” প্রতিমূর্ত্তি স্ত্রীমূর্ত্তি দিয়াই সেই ভাবগুলি বড়ই উপযুক্ত হইরাছে। সম্মুখে দুইটি মাংসপেশীবহুল নগ্নদেহ বীরপুরুষ অবস্থিত। একটির হাতে যুদ্ধের অস্ত্র শস্ত্র; অপরটির হাতে একখণ্ড কাগজ। অর্থাৎ ন্যায়, সাম্য, দয়া দাক্ষিণ্য, শৌর্য্য বীর্য্য ও সুনিয়ম সুশাসনের দ্বারা পরিবৃত হইয়া ফরাসী দেশের সাধারণ তন্ত্রের রাজ্যলক্ষ্মী সেই মন্দিরে বিরাজ করিতেছেন। তাঁহারই পদতল হইতে সেই বারিধারা সেই স্রোতের উৎস ছুটিয়াছে। ফরাসী জাতি সাধারণ তন্ত্রের বড়ই পক্ষপাতী। সাধারণ তন্ত্রের সমগ্র, সুব্যবস্থা একত্রে এইরূপে দেখাইয়া তাঁহারা সেই মূর্ত্তিকে দেবীর মত পূজা করেন।
এসব দেশে সচরাচর বাড়ীর সামনের দরজা বন্ধ থাকে। দরজার ঘণ্টা টিপিবামাত্রই একটি রমণী আসিরা দ্বার খুলিয়া দিল। আমরা মিউজিয়মটির ভিতর ঢুকিয়া মিউসিয়মটির নিম্নতলায় পৌঁছিলাম।
নিম্নতলাটি কেবল প্রস্তর ও ধাতুনির্ম্মিত সুন্দর সুন্দর প্রতিমূর্ত্তিতে পূর্ণ। তেমন সুন্দর ছবি তার পূর্ব্বে আর কোথাও কখনও দেখি নাই। সবগুলিই এত সুন্দর যে কোনটি ছাড়িয়া কোনটি দেখিব তা স্থির করা যায় না। অধিকাংশই নগ্ন স্ত্রীমূর্ত্তি। ইতালীয় ও ফরাসী দেশের ভাস্কর বিদ্যার ইহা প্রধান অঙ্গ।
দ্বারদেশের প্রথম মূর্ত্তিটি রাণী “ক্লিওপেট্রা”র। সর্পাঘাতে জর্জ্জরিত হইয়া তাঁহার কোমল শ্যামতনু শিথিল হইয়া ভূতলে পড়িয়াছে। তাঁহার হাতে স্বর্ণবলয় গাছটিও ঠিক সাপের মত জড়ান। আর ভাবমাখা চোখ দুটিও বিষে অলস হইয়া পড়িয়াছে। আত্মঘাতিনী রাণীর চারিদিকে সখীরা শোকমগ্না।
তার ঠিক পাশেই কাঁটাগাছের মুকুট পরা এক মহাপুরুষের জ্যোতির্ম্ময় মস্তক। শক্তিহীন হইয়া নত হইয়া পড়িয়াছে। একটি স্ত্রীরূপী স্বর্গীয় দূত