বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৬
বিলাত ভ্রমণ।

নানা দেশে নানা ভাবে এত আদর। এক এক খানির দাম এক মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক।

 তার পাশে আরও অনেকগুলি এই শ্রেণীর চিত্র দেখিলাম। একটি চিত্রে “সেণ্ট সিবাষ্টাইন” নামক জনৈক খৃষ্ট-ভক্তের উপর লোকের অমানুষিক অত্যাচার। এরূপভাবে দয়া উৎপাদন করা আজকালকার কলাবিদ্যার অনুমোদিত নহে। যেমন অতি চীৎকার গানে, অতিশয় অলঙ্কার সাহিত্যে নিষিদ্ধ, তেমন চিত্রেও অতিশয় অঙ্কনবিধিও নিষিদ্ধ। যথার্থ কলাবিদ্যায় মনের উপর ক্ষমতা বিস্তার সম্পূর্ণ অলক্ষিতে হওয়া চাই।

 তার পরের ছবিখানি একটি সন্ন্যাসীর ছবি। নত জানু জোড়হাত হইয়া কুমারী মেরীর প্রতিমার তলায় বসিয়া তিনি উপাসনা করিতেছেন। এগুলি ঠিক আমাদের প্রতিমা পূজারই মত। ধর্ম্মের সকল হাবভাবই প্রাচ্য স্থানসমূহ হইতে প্রতীচ্য দেশে অনুকরণ করা হইয়াছে।

 একখানি ছবিতে একটি বৃদ্ধা রমণী তাঁর ছোট নাতিটিকে প্রার্থনা করিতে শিখাইতেছেন। শিশু তাঁহাকে কিরূপ সুন্দর অনুকরণ করিতেছে! এই আদি শিক্ষার জোরেই ভালমন্দ সমস্ত বাল্যসংস্কার আমাদের মনে এমন প্রবলভাবে রাজত্ব করে।

 পাশে অনেকগুলি ছবি ভাঙ্গা ও অঙ্গহীন। যে অংশগুলি ভাল আছে সেগুলি অতি সুন্দর, আর যেগুলি নাই সেগুলি কল্পনায় আরও সুন্দর!

 তার পাশে প্রাচ্য দেশের একটি রাজপুত্রের প্রতিমূর্ত্তি। রাজকুমারের দেহ নানা ভূষণে ভূষিত। মাথায় জড়িবুনা ঝকমকে তাজের উপর উঠপক্ষীর পালক লাগান । গলায় গজমুক্তার মালা। যত রমণীদের জনতা সেই ছবিটির কাছে।

 আর একখানি ছবিতে এক রমণী স্নানান্তে দর্পণে আপাদ মস্তক নিজের ছায়া দেখিয়া রূপে এমন মুগ্ধ হইয়া পড়িয়াছেন যে আপনারই ছায়াকে