প্যারিসের পথে
রাত্রি আটটার সময় মার্সেল হইতে গাড়ী ছাড়ে। গাইড আসিয়া অতি সুব্যবস্থায় আমাদের ষ্টেশনে গাড়ীতে চড়াইয়া দিল। সে সময় পথে যাইতে যাইতে দুই ধারের যে শোভা দেখিলাম, তাহা বর্ণনার অতীত। সন্ধ্যার পরই যত আমোদের সময়। দুই ধারের দোকানগুলি বৈদ্যুতিক আলোকে আলোকিত। কাচের জানালা দিয়া ভিতরকার সব সাজান জিনিষগুলি সুন্দর দেখা যায়। সুসজ্জিত ফরাসী রমণীরা অতি ব্যগ্রতা ও বিভ্রমের সহিত বেচা কেনা করিতেছেন। ‘কাফে’র আড্ডাগুলি জনতায় পরিপূর্ণ। সন্ধ্যাবেলার উপযোগী মিসকালো পোষাক পরা সুসভ্য লোকগুলির হাসিমাখা মুখ দেখিলে মনে হয়, তাঁহাদের কখনও কোনও মনঃকষ্টের কারণ হয় নাই। নাচঘরের কাছে ভিড়ের অবধি নাই। স্থান বিশেষে রাস্তার আলো ও জনতা দিনকেও হারাইয়াছে।
আমাদের দেশের ষ্টেশনগুলিতে সর্ব্বদা তুমুল গোলমাল শুনা যায়, ও সকল দেশে এত লোকাধিক্য সত্ত্বেও ষ্টেশনগুলি অনেকটা নিস্তব্ধ। সকলেই আস্তে আস্তে কথা কয়। উচ্চরবে কথা কহা ভদ্রোচিত নহে। আর মাল পত্র বোঝাই ও লোকের যাতায়াতের এমন শুনিয়ম যে, কেহ কাহারও গায়ে গা দিয়া চলে না। সকলেরই ভিন্ন ভিন্ন দিকে যাবার নির্দিষ্ট পথ আছে।
রেলগাড়ীগুলি অতি সুন্দর ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সবদিকেই বড় বড় কাচে ঢাকা। কেবল দুই দিকে উঠিবার ও নামিবার দরজা আছে, তাহা কলে আপনিই খুলে ও বন্ধ হয়। সেই দরজা দিয়া ঢুকিয়া একটি বারান্দায় পড়া যায়। গাড়ীর একধারে বরাবর ঢাকা বারান্দা চলিয়াছে। তার ভিতর সারি সারি যাত্রীদের কুঠারী বা “কম্পার্টমেণ্ট”।