বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্যারিসের পথে।
১০৯

দুই ধারের দুই বেঞ্চী গদি দিয়া ঢাকা ও তার মাথার উপর একটু কাঠ ও দড়ি নির্মিত হালকা জিনিষ রাখিবার স্থান আছে। এ সকল দেশে যাত্রীদের গাড়ীতে মোট-ঘাট লইয়া উঠিবার ব্যবস্থা নাই। কেবল হাতব্যাগ, কম্বল ও ছাতি কিম্বা ছড়ি মাত্র লওয়া চলে। এ সব দেশে বেড়াইলে বেশ বুঝা যায় যে, হাতব্যাগ কত উপকারী জিনিষ। সর্ব্বত্র যাতায়াতের জন্য এর ভিতর করিয়া অতি আবশ্যকীয় জিনিষগুলি লইতে হয়, যথা চিরুণী, বুরুষ, এসেন্স, ঘুমাবার কাপড় ও একটি সার্ট ও গেঞ্জি এবং রুমাল। সে দেশেতে তেমন ধূলাও নাই আর ধোঁয়াও হয় না। কাজেই কাপড় ময়লা কমই হয়। সপ্তাহে দুইটি কলার ও একটি সার্ট বদলাইলেই যথেষ্ট হয়। আর গরম পোষাকটি বুরুস দিয়া ঝাড়িলেই চলে।

 দুখানি বেঞ্চে চারিজনার বসিবার স্থান—সবাই এক এক কোণে বসিবে। তার জন্য মাঝে বালিস দিয়া স্থান ভাগ করা আছে। আমাদের এদেশের দ্বিতীয় শ্রেণীর মত শুইয়া ঘুমাবার ব্যবস্থা নাই। বসিয়া বালিস ঠেস্ দিয়া ঘুমাইতে হয়। কর্মঠ দেশের লোকের এইরূপেই ঘুম উপযুক্ত। আলাদা পাতলা নরম ধোপ ফুলকাটা বালিসও ষ্টেশনে ভাড়া পাওয়া যায়। গরীব স্ত্রীলোকেরা টানা গাড়ীতে করিয়া সেই বালিস ও গায়ে দিবার কম্বল লইয়া বেড়াইতেছে। রাত্রিতে ব্যবহার করিয়া যে স্থানে নামিবে, সেই স্থানে ষ্টেসনে ফেলিয়া দিয়া যাও বালিস তার কাছে পৌঁছাইবে। সুনিয়ম ও সুব্যবস্থা আছে বলিয়া, কিছু চুরি যাইবার ভয় নাই। ১০ সেণ্টিম বা ২ আনায় একটি বালিস ভাড়া পাওয়া যায়।

 এ সকল দেশে যাতায়াতের এমন সুবন্দোবস্ত যে, সকল স্থানেই বাড়ীর মত সুবিধা পাওয়া যায়। রেলগাড়ী, ষ্টীমার বা অন্য যানবাহনে সব সুবন্দোবস্ত আছে। আর যে স্থানে ইচ্ছা থাকিতেও কোনও অবিলি নাই; তার কারণ সর্ব্বত্র সস্তা ও ভাল হোটেল পাওয়া যায়। রেলগাড়ীতেও খাবারের সুবন্দোবস্ত আছে। গাড়ীর সঙ্গে সঙ্গেই ভোজন করিবার