বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২
বিলাত ভ্রমণ

এখনও ঘোলা-নদীর ময়লা মাটী আসিয়া নীল সমুদ্রজলে পড়িতেছে বলিয়া জলের রঙ সবুজ। ক্রমে বঙ্গোপসাগরের আরও বাহিরের দিকে অপার অনন্ত জল কেবলই ঘোর নীল। চারিদিকে সে নীলিমা সুদূর নীল আকাশ অবধি প্রসারিত।

 এখান হইতে কলোম্বো পৌঁছাইতে ছয় দিন লাগে, এই কয়দিন জল ও আকাশ ছাড়া বাহিরে আর কিছুই দেখিবার নাই। তবে জাহাজের ভিতর দেখিবার অনেক আছে। সে সংকীর্ণ স্থানে লোকে লোকারণ্য। কেবল রাত্রিকালে নিজ নিজ কেবিনে ও তিন বার আহারের সময় ভোজনস্থলে যাওয়া ছাড়া সর্ব্বদাই সকলের সঙ্গে ডেকের উপর দেখা হয়। সেখানে সবাই পাশাপাশি আরাম কেদারা পাতিয়া বসিয়া থাকে, বা পরস্পরের সহিত গল্পগুজব বা পড়াশুনা করে। এক একবার উঠে পায়চালি চলে। অত সংঙ্কীর্ণ সেই স্থানেও সুব্যবস্থায় কতটা লাফালাফিও চলিতে পারে। তা ছাড়া পড়িবার ঘরও আছে। সেখানে কাগজ ও বই আছে ও লিখিবার সরঞ্জাম সব সাজান। তবে পিয়ানো সংযোগে গান বাজনা নাচা ইত্যাদি আমোদ সর্ব্বাপেক্ষা সকলেরই প্রিয়। প্রায় প্রতিদিন ৭টার সময় সন্ধ্যা ভোজনের পর সেইরূপ আমোদ হইত।

 সকল লোকেই সেখানে আলাপ করিতে ব্যস্ত, আলাপও সেখানে সহজেই হইয়া যায়। রমণীদের এইরূপ জনতার স্থানেই সাজসজ্জাও বিভ্রমের উপযুক্ত সময়। দিনে দিনে কত রকমেরই বেশ পরিবর্ত্তন হইত। ছোট ছোট ছেলে মেয়েগুলি সব সেখানে সুধুপায়ে থাকে। সকলেরই দেখা যায় স্বাধীন আনন্দময় ভাব। সকল রকম দুশ্চিন্তা ও অশান্তি অমন জনতায় ও আনন্দের মাতামাতির স্থানে ভুলিয়া যাইতে হয়। আর উন্মুক্ত নির্ম্মল বায়ু সেবন করিয়া শরীরে কত স্বাস্থ্য আসে। সুনিদ্রার তো কথাই নাই। এঞ্জিনের অস্পষ্ট মধুর শব্দ শুনিয়া ও ঢেউয়ের