বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬
বিলাত ভ্রমণ

অষ্ট্রেলিয়া প্রভৃতি যাইতে কলম্বো হইয়া যাইতে হয়। সেই কারণ এখানে অনেক বড় বড় জাহাজ লাগে ও সেইহেতু এই স্থানটি একটি বড় বন্দর। ডাঙ্গায় নামিয়া দেখিলাম, দোকানপাটে সমুদ্রের ধারের স্থানগুলি ভরা। রাস্তাগুলি চওড়া পরিষ্কার ও পাহাড়ে স্থানের মত উঁচু-নীচু। দুইধারে বড় বড় পাথরের বাড়ী অল্প সংখ্যক মাত্র আছে, অন্য সবগুলি একতোলা ও ঢালু ছাদের। গবর্ণরের প্রাসাদ ঠিক সমুদ্রের ধারেই একটি অনুচ্চ পাহাড়ে অবস্থিত। সহরের প্রায় চারিদিক হইতেই সমুদ্র দেখা যায়। সহরের ভিতরে মধ্যে মধ্যে বড় বড় মিষ্ট জলের হ্রদ আছে। সেগুলি আর কিছুই নয়—বড় বড় দীর্ঘিকার মতন। বর্ষার জল পাহাড়ের গাত্র হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া এ গুলিতেই আবব্ধ থাকে। জল লোনা নয় বলিয়া এই জলে দেখিলাম ধোপারা কাপড় কাচিতেছে, আর স্ত্রীলোকেরা কল হইতে কাজ করিয়া আসিয়া সাবান দিয়া গা ধুইতেছে।

 কলম্বো কলিকাতা হইতে অনেক ছোট সহর। বন্দর হইতে একটু ভিতরে যে সকল থাকিবার বাড়ী আছে, সেগুলি সব বাগানযুক্ত ও অনেকটা জমি লইয়া ঘেরা। সেই সকল স্থানই ধনীলোক ও সাহেবদের থাকিবার স্থান। ঠিক যেন কুঞ্জবনের মতন। এ সকল দেশে সব গাছই সতেজে জন্মায়। গাছগুলির ঘন পাতায় এমন সবুজ রঙ যে, আমাদের দেশে তেমন বড় একটা দেখা যায় না। আর তাদের ফুল ও ফল তেমনি বড় বড় ও সুন্দর! একটি সৌখীন লোকের বাগানে দেখিলাম, সমস্ত স্থান নানাপ্রকার ফুলে ভরা। সে পথ দিয়া গেলে, সুগন্ধে প্রাণ আমোদিত হয়, চোখ জুড়ায়। এইখানেই গাছের শীতল ছায়ায় বসিয়া মধুর স্বরে কত কি পাখী ডাকিতেছিল। আর সেখানে অবিরল ঝিল্লিরব শুনা যায়। তাতে সে নির্জ্জন স্থানে মনে এক অনির্ব্বচনীয় শান্তির ভাব আসিতেছিল। বড়ই ইচ্ছা হইতেছিল, আরও খানিক বসিয়া যাই।

 গাছপালা এত সহজে জন্মায় দেখিয়া আমার মনে হইতে লাগিল, বোধ