পরে, কোট গায়ে দেয়। দাড়ি গোঁপ রাখে, আবার মাথায় খোঁপা বাঁধে ও তাহাতে অর্দ্ধ চন্দ্রাকারে বাঁকা চিরুনি গুঁজিয়া রাখে। কেহই সবল সুস্থ বা হাসি মাখা মুখ নয়—কেন যে এমন কে জানে?
স্থানটি যেমন ছোট তেমনি এখানে দেখিবার জিনিষও অতি অল্পই আছে। ভিক্টোরিরা পার্কের ঘাসযুক্ত খোলা ময়দানটি ঠিক যেন সবুজ সতরঞ্চি পাতা। সেখানে ছোট ছোট গাছ নাই, মাঝে মাঝে বড় বড় গাছ আছে। জমিটি উঁচু-নিচু। সেখানকার জলনিকাশ হইয়া মাঝে মাঝে এক একটি মিষ্ট জলের বড় বড় দীর্ঘিকা হইয়াছে। সেখানেও সেই পাখীর গান—সেখানেও সেই অবিশ্রান্ত ঝিল্লিরব। চারিদিকের দৃশ্যে কেমন একটু নির্জ্জন মধুর ভাব আছে।
অনতিদূরেই কলম্বোর মিউজিয়ম। সেখানে আশেপাশে অনেকগুলি গবর্ণরের শ্বেতপ্রস্তর মূর্ত্তি আছে। সে সকল গুলিরই দেখিলাম তেজঃপূর্ণ উদ্দীপ্তভাব। একটিরও দয়া দাক্ষিণ্য বা কোমলতা মাখান ভাব নহে। যেন তাদের পদতলে পড়িয়াই সিংহলবাসীর অমন ম্লান মুখশ্রী হইয়াছে।
মিউজিয়মের ভিতর নীচের তলায় প্রত্নতত্ব ও স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের অনেক জিনিষ সুব্যবস্থায় সাজান আছে। ঘরে ঢুকিয়াই নানা প্রকার নৌকা ও তদুপযোগী দ্রব্যাদির প্রতিকৃতি একধারে সাজান আছে। সে যে কত রকমের, তা বলা যায় না। কোন কোনটি বা কেবল কতকগুলি সোজা সোজা কাঠ দিয়া প্রস্তুত—ঠিক যেন ভেলার মত। কোনটি বা আরও ভাল রকমের কামরাওয়ালা নৌকার মতন। সবগুলি সরু ও দ্রুতগতির উপযুক্ত। নানারকমের পাল, নানা রকমের দাঁড় ও লগি এবং মাছ ধরিবার জাল। আর একধারে সিংহলে মুক্তা তোলার ছবি সাজান আছে। কাল কাল নগ্ন মানুষগুলি ঝুড়ি লইয়া দড়ি ধরিয়া, জলে ডুব দিতেছে। কোনটী বা মুক্তা কাঠিবার অবস্থা, কোনটি বা উঠিবার অবস্থা, সব গুলিই অতি সুন্দর রচিত।