তার আর এক পাশে তাল ও নারিকেল গাছ হইতে যত রকম দ্রব্য হইতে পারে সেই সব রক্ষিত। গাছের গুড়ি হইতে নানারূপ কাঠের দ্রব্য ডোঙ্গা ও বরগা। পাতা হইতে কত রকম ঠোঙ্গা, চ্যাটাই, ছাতা, টোকাও লিখিবার তালপাতা। ছোবরা হইতে দড়ি ম্যাটিং বুরুষ ইত্যাদি। নারিকেল পাতার কাটি হইতে ঝাটা ঝারন। খোলা হইতে হুকা ও নানা প্রকার পাত্র। শাঁশ হইতে নানা প্রকার মিষ্টান্ন, তেল হইতে বাতি, সাবান ইত্যাদি। তালের রস হইতে গুড়, চিনি, মিছরি ও মদিরার মত নানা জাতীয় পানীয় প্রস্তুত রহিয়াছে।
আর এক পাশে মালদ্বীপ প্রভৃতি স্থানের যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র ও তাহাদের পূজা করিবার দেবতা। সে দেবতাগুলি অতি ভীষণ দর্শন। অনেকেরই মুখ জলজন্তুর মত। কেহ কেহ বা আস্ত মানুষ ধরিয়া খাইতেছে। সে মনুষ্যজাতির শৈশব অবস্থার ভীষণ কল্পনার ছবিগুলির কথা ভাবিলে এখনও অবধি মনে ভয় হয়।
পাশের ঘরে একদিকে পুরাকালের ও আধুনিক নানাজাতীয় মুদ্রা সাজান আছে। অতি প্রাচীনকালের মুদ্রাগুলি কেবল এক একটি লোহার বা তাঁবার খণ্ডমাত্র। তার অনেক পরে সুগঠন ও ছাপামারা ধাতু মুদ্রা আসিয়াছে। মুদ্রাগুলি সাজানতে যেন মনুষ্যজাতির সভ্যতার ক্রমবিকাশ বা অভিব্যক্তি স্পষ্টাক্ষরে লেখা আছে।
তাহার পাশেই পাথরের, হাতীর দাঁতের, ও চন্দন কাঠের খোদাই কাজ। এ সকল দ্রব্যই সিংহলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সকল গুলিতেই বুদ্ধপ্রাণ সিংহলবাসীরা বুদ্ধদেবের মূর্ত্তি নানা ভাবে খুদিয়াছে। আর নানা স্থানের বুদ্ধলিপি খোদিত পুরান পাথরগুলিও ইংরেজ রাজ সযতনে রক্ষা করিয়াছেন।
যেমন নীচের তলায় প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কীয় জিনিষ রক্ষিত আছে, তেমনি উপর তলায়ও মৃত জীব জন্তুদেহ সবই জীবন্তের মতন সাজান আছে।