বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
বিলাত ভ্রমণ।

তার মধ্যে জলজ প্রাণী সর্ব্বাপেক্ষা বেশী। তা হবেই ত—সিংহল সমুদ্রতীরের দেশ কি না, তাই এখানে যত প্রকার নৌকার প্রতিকৃতি জলজ প্রাণীদেহের বাহুল্য দেখা যায়। ছোট বড় নানা আকৃতির ও নানা বর্ণের কত প্রকার মাছ। বিদ্যুৎ উৎপাদক “রে” ও “টরপেডো” সূচিমুখ মৎস্য বিশেষ ও লম্বা ল্যাজযুক্ত শঙ্কর মাছ। “ডিউডঙ্গ” শুশুকেরই জাতীয়—তাহারা মৎস্য নয়, সন্তানকে দুগ্ধপান করায়। বৃহদাকার একটি ঐ জন্তু ও তাহার এক ছানা একত্র রক্ষিত রহিয়াছে। আর তার তলায় লেখা যে, ছানাটিকে ধরাতে মাও আসিয়া আপনি ধরা দিল। এ রকম অধম জীবেরও এত সন্তান স্নেহ। তা ছাড়া নানা জাতীয় “কোয়াল” “স্পঞ্জ” ও “হাইড্রয়েট”ও আছে; একটি কফি গাছের উপর একটি প্রজাপতি এমন সুন্দরভাবে বসেছে—ঠিক যেন কফিগাছেরই পাতার মত। কে তাকে চিনবে প্রজাপতি ব’লে।—দেখিলাম পাখা দুখানি যেন কফিপাতা, আর ধড়টি যেন বোঁটা, আর গায়ের রঙ্গ ঠিকই কফিপাতারই মত। প্রাণীরা শত্রুর চক্ষে এমনি করিয়া ধূলা দিয়াই এই বিপদ সঙ্কুল জগতে আত্মরক্ষা করে। এইরূপ অনুকরণই (mimicry) ডারউইনএর অভিব্যক্তিবাদের মহা পরিপোষক। অর্থাৎ অবস্থানুসারে নিজেকে গড়িয়া লইতে না পারিলে মরিতে হয়।—কি প্রাণীর বেলা, কি মনুষ্যজাতির বেলা এ নিয়ম সকলের পক্ষে সমান প্রযুজ্য।

 মিউজিয়ম হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া সেই স্থানের বাজার দেখিতে চলিলাম। কেনা-বেচার জায়গায় লোকের আবশ্যক অনাবশ্যকের জিনিষ দেখিলে সেখানকার লোকের প্রকৃতি বুঝা যায়। এই জন্যেই আমি যে দেশেই বেড়াতে যাই না কেন, দেশের বাজার ও স্থানীয় লোকদের বসতিস্থান না দেখিয়া ফিরি না। যাইতে যাইতে দেখিলাম, পথে পানওয়ালীরা পান বেচিতেছে—আস্ত আস্ত পান ও খানকতক করে সুপারি দেওয়া। দোকানে দোকানে নারিকেল, আম, কলা, পেঁপে, আনারস