কেবল একটি ধ্বংসপ্রায় সমাধিক্ষেত্র ও একটি বৃহৎ ঘণ্টা উচ্চে টাঙ্গান আছে। পূর্ব্বে এ সব অঞ্চলে ওলন্দাজদের প্রাধান্য ছিল; এখনও তাহারা যব প্রভৃতি দ্বীপের রাজা। সিংহল দ্বীপে মৃতজনের অস্থি ছাড়া আর তাঁহাদের এখন কিছুই নাই।
ইহারই অনতিদূরে এক বিস্তীর্ণ সরোবরের তীরে একটি ছোট বৌদ্ধমন্দির দেখিতে গেলাম। সে মন্দিরটি লোকালয় হইতে দূরে এক নিভৃত স্থানে, চারিদিকের বড় বড় গাছের দ্বারা আচ্ছাদিত। বহুদিনের পুরাতন প্রাচীরগুলি ভাঙ্গা ও মন্দিরটি অযত্নে রক্ষিত। সেখানে অনেকগুলি ছাঁচি পানের গাছ আছে। যাঁহারা মন্দির দেখিতে যান, তাঁহারা স্বেচ্ছায় এক একটি পাতা ছিঁড়িয়া দেবতার প্রসাদ মনে করিয়া মুখে দেন। তা ছাড়া সে বৌদ্ধমন্দিরের ভিতর নৈবেদ্য বা শঙ্খ ঘণ্টা কিছুই নাই। ছেঁড়া গেরুয়া বসন পরিহিত সেখানকার বৌদ্ধপুরোহিতেরা অতিশয় গরিব। তাঁহারা তাঁহাদের ইষ্টদেবকে তাল পাতার পুথি পড়িয়া পূজা করেন। বুদ্ধদেবের জন্মবৃত্তান্ত, গোপার পদ্মপত্র হইতে আবির্ভাব, বুদ্ধের ধ্যানস্থ প্রতিমূর্ত্তি ভক্তেরা তাঁদের দেবতার মূর্ত্তি কত বিভিন্নরূপেই কল্পনা করিয়াছেন।
মন্দিরের সামনেই একটি ধর্ম্মপ্রচার করিবার স্থান। তার চারিদিকেই শ্রোতারা বসেন, আর মধ্যের এক উচ্চ বেদীতে পুরোহিত বসিয়া ধর্ম্ম-উপদেশ দেন। তার পাশেই একটি ভগ্ন উচ্চ মন্দিরচূড়ায় একটি বড় ঘণ্টা ঝুলান আছে—সন্ধ্যা-উপাসনার সময় এই ঘণ্টার রবই দূর হইতে সকলকে আহ্বান করে। আর তার পাশেই এক উচ্চ স্থানে আলো দিবার ব্যবস্থা। সে আলোটি এখন অযত্নে অতিশয় নিস্প্রভ। বিশ্বভুবন যে আলোয় আলোকিত হইয়াছে, তারই একটি ছোট মিটমিটে প্রতিকৃতি।
আমিও সেই প্রসাদ তরুর তলায় দিয়া আসিবার সময় একটী পানপাতা ছিঁড়িয়া মুখে দিলাম। আর ফিরিবার কালে পালিভাষায় লেখা সেই