এডেন্ বন্দর।
বৈকালে চারিটার সময় কলম্ববন্দর হইতে আমাদের জাহাজ ছাড়িল এবং সন্ধ্যা হইবার পূর্ব্বেই লঙ্কাদ্বীপের শেষ রেখা সুদূর আকাশ ও জলের মাঝে মিশাইয়া গেল। এখন হইতে ভারতবর্ষের সহিত সকল সম্পর্ক ছাড়া—চারিদিকে কেবল অনন্তনীল জলরাশি ও সুনীল আকাশ।
ভারতসমুদ্র দিয়া প্রায় ১১ দিন যাওয়ার পর তবে এডেনে পৌঁছাইতে পারা যায়। এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে চারিদিকে আর কিছুই দেখিবার নাই। তবুও সেই ক্ষুদ্র জাহাজখানির ভিতরে শত সহস্র লোকের বাস বলিয়া আমোদ আহ্লাদের কোনই অভাব বোধ হয় না। কত দেশের কত রাজ্যের লোকের সহিত একত্র বসা, দাঁড়ান, খেলা ও কথা বার্ত্তা। কাজ কর্ম্ম না থাকাতে সবাই ব্যস্ত হইয়া আলাপ করে। নাচ, গান ও অন্যান্য খেলার মধ্যে জুয়াখেলা একটি প্রধান।
এইরূপে দিন রাত চলিয়া ১১ দিনের দিন জাহাজ এডেন বন্দরের নিকটবর্ত্তী হইতে লাগিল। এত দিন সমুদ্র বেশ প্রশান্ত ছিল,—কেবল জুলাই হইতে সেপ্টেম্বর অবধিই মোরসুম চলাতে সমুদ্র ক্ষুব্ধ থাকে। কিন্তু এডেন উপসাগরে ঢুকিবার সময় বিষম তরঙ্গ আরম্ভ হইল। সারা সমুদ্রের যত ঢেউ এই সঙ্কীর্ণ পথে ঢুকে বলিয়াই সকল উপসাগরে বা নদীর মোহানায় ঢেউ বেশী হইয়া থাকে। কিন্তু অল্পক্ষণ এইরূপে আলোড়িত হইয়াই আমরা এডেন বন্দরে পৌঁছিলাম।
দুর হইতে কাল কাল ও গাছপালাহীন যে সকল পাহাড় দেখা যাইতেছিল—সেইরূপ পাহাড়েরই শিরোদেশে এডেন বন্দর নির্ম্মিত। গাছ পালায় শোভিত লঙ্কাদ্বীপের সঙ্গে তুলনায় এস্থান কিরূপ ভীষণ বোধ