বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এডেন্ বন্দর
১৫

হইল, তাহা বলা যায় না। এ আরবের মরুভূমির নিকটস্থ প্রস্তরময় দেশ। বন্দরেও বেশী জাহাজ বা নৌকা নাই। বড়ই নির্জ্জন স্থান। ছোট ছোট বাংলাগুলি সব পাহাড়ের গায়ে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে রক্ষিত। তাহাতে অল্পসংখ্যক মাত্র লোক বাস করে। সে দেশের লোকেরা সব কাল কাফরীর মত দেখিতে, চুল কোঁকড়া ও ছোট ছোট পশমের মত ও ঠোঁট পুরু; কিন্তু মুখখানি নারিকেল ফলের মত সুগঠন। এ স্থান ভারতবর্ষেরই এলাকাভূক্ত, তাই তাহারা অনেকে হিন্দি বুঝে। বহুদিন পূর্ব্বে যেমন সিঙ্গাপুরে দেখিয়াছিলাম ও সম্প্রতি যেমন কলম্বোতে দেখিয়াছি—ছোট ছোট নগ্ন মূর্ত্তি কতকগুলি ছেলে ছোট ছোট নৌকায় করিয়া আসিয়া সমুদ্রে ডুব দিয়া প্রক্ষিপ্ত সিকি দুয়ানী কুড়াইতে লাগিল। ইহারা এমন করিয়াই জীবনযাত্রা নির্ব্বাহ করে। নিকটবর্ত্তী স্থান হইতে যে সকল মুসলমান সওদাগরেরা এখানে আসিয়া ব্যবসায় করে, তাহারা এইখানে আসিয়া কিছুদিনের জন্য এই দেশেরই স্ত্রীলোকদের পত্নীরূপে রাখে। তাহাদেরই গর্ভজাত এই ছেলেরা। পরে যখন এই সকল বণিকেরা নিজ দেশে ফিরিয়া যায়—এই সকল পরিত্যক্ত ছেলেদের উপায়ান্তর না থাকায়—তাহারা এইরূপে ও বন্দরে অন্যান্য কার্য্য করিয়া নিজেদের ভরণপোষণ চালায়।

 এ মরুভূমির দেশে কেনা বেচা করিবার বেশী কিছু দ্রব্য নাই। লোকেরা নৌকায় করিয়া সুন্দর সুন্দর অষ্ট্রীচ পক্ষীর পালক ও ডিম লইয়া বেচিতে আসিল। মেমেরা এই পালকের বড়ই ভক্ত; তাঁহারা অসম্ভব দাম দিয়া পালকের পাখা ও পালক কিনিতে লাগিলেন। দূরে একখানি বড়, আরব দেশের পুরাকালে যেরূপ নৌকার ব্যবহার হইত, সেই নৌকা দেখিলাম। চীনদেশের “জাঙ্কের” মত তাহারও ধার ও গলুই উচু ও তাহা পালে চলে। এইরূপ জাহাজে চড়িয়াই বিখ্যাত আরব দস্যুরা লোহিত সমুদ্র ও নিকটবর্ত্তী স্থানে ঘুরিয়া বেড়াইয়া সমুদ্র