বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬
বিলাত ভ্রমণ

যাত্রা এত ভয়ানক করিয়া তুলিয়াছিল। সে দিনের তুলনায় এখন কত পরিবর্ত্তন হইয়াছে।

 সে দিন আমাদের রাণী “এলেকজেন্দ্রিয়ার” জন্ম দিন বলিয়াই সকল জাহাজে ও বাড়ীতে সেখানে লাল ধ্বজা উঠান ছিল। দূরের সর্ব্বোচ্চ পাহাড়েও সেই ধ্বজা। সেই খানেই মার্কণীর তারহীন টেলিগ্রাফের উচ্চতর স্তম্ভ স্থাপিত ও সেনানিবাসের ব্যারাক গুলি শোভা পাইতেছিল। জলের কাছে সমুদ্রের ধারে ধারে একটি রাস্তা পাথরে গাঁথা—তার উপর দিয়া কত উষ্ট্র ও অশ্বতর বিষম কষ্টের সহিত বোঝা লইয়া পাহাড়ে চলিতেছে। এ মরুভূমি ও পাথরের দেশ এমন বৃষ্টিহীন যে, সারা বছরে ৮ ইঞ্চি মাত্র বৃষ্টি পড়ে। সেই বৃষ্টির জল ধরিয়া রাখিয়া জলকষ্ট নিবারণ করিবার জন্য এই নদীহীন দেশে পাহাড়ের জল নিকাশের পথে বাঁধ দিয়া সেই জল আটকাইয়া রাখা হয়। সে স্থানটীও দেখা যাইতে লাগিল। অনেক দিন হইতে জলরক্ষা করিবার এইরূপ প্রথা এডেন ও আরবের অন্যান্য দেশে খৃষ্ট পূর্ব্ব বহু শতাব্দী হইতে চলিয়া আসিতেছে—প্রসিদ্ধ “আরবের বাঁধ” ইহার একটি। বহুদূরে একটি আরব পল্লী দেখা যায়, তাহাতেও নূতন নুতন সমৃদ্ধিশালী কোটা বাড়ী দেখা গেল, সুসভ্য লোকের সংস্পর্শে আসিয়া আরবও সভ্য হইয়াছে। আর একদিকে সমুদ্রের ধারে পরিস্কার নুন প্রস্তুত করিবার জন্য একটী আড্ডা হইয়াছে। সেখানেও বড় বড় বাংলা ও বহুদূরব্যাপী সাদা সাদা নুন জমা করা রহিয়াছে দেখা গেল। এ কাজে খুব লাভ। যে দরে পূর্ব্বে ময়লা নুন বিক্রয় হইত, এখন তাহার সিকি দরে ভাল সাফ নুন বিক্রয় হইতেছে বলিয়া আরবদেশের ভিতরকার স্থানে অধিক এই নুনই চালান হয়। এমন কি সাইবিরিয়ায় ও অনেক অংশে এই নুন যায়। কিন্তু আজ কাল এত লাভ দেখিয়া—আরবের বন্দরের নিকটও এইরূপ অনেক নুনের আড়ৎ তৈয়ার হইয়াছে। নুন যত আবশ্যকীয় জিনিস হোক না হোক মুখরোচক জিনিস বলে সকল মানুষেই