চায় ও সেই কারণেই এর এত দাম ও লভ্যাংশ উভয়ই বেশী। বৃষ্টির যে জল বাঁধ দিয়া ধরিয়া রাখিবার কথা পূর্ব্বে বলিয়াছি, সে জল পান করিবার উপযুক্ত নহে। সমুদ্রের জল জ্বালাইয়া সাফ করিয়া ও পুনরায় জমাইয়া যে জল হয়, সেই জলই এখানে লোকে পান করে। এরূপ জ্বালান জল স্বাস্থ্যকর নহে বলিয়া জার্ম্মাণ সৈন্যদিগকে পূর্ব্বেকার মত আর এরূপ জল পান করিতে দেওয়া হয় না।
দেশ বড়ই শুকনা ও গরম, কিন্তু তাহাতে অস্বাস্থ্যকর নহে। তবে ওরূপ দারুণ উত্তাপে অনেক দিন থাকিলে শরীর বড়ই খারাপ হয় ও স্নায়ুদৌর্ব্বল্য ঘটে। এইখানে বাস করিবার কালে বিস্তর সৈন্য আত্মহত্যা করে। বোধ হয়, অতিরিক্ত গরমে স্নায়ুদৌর্ব্বল্য বা মস্তিষ্কের বিকারই তাহার কারণ। প্লেগও এখানে আসিয়াছে, তবে টিকা দিয়া তাহার অনেক প্রতিকার বিধান হইয়াছে। ১৫০ জন, যাহারা টিকা লয়েন নাই, তাহাদের ভিতর ৩০টি মরেন। অপর ১৫০ জন যাহারা টিকা লইয়াছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে কেবল একটি আক্রান্ত হন ও মরেন।
এ প্লেগ অবশ্য ভারতবর্ষ হইতেই আসিয়াছে। প্রতি বৎসর হাজে বা মক্কায় ভারতবর্ষ হইতে বিস্তর মুসলমান যাত্রী যায়। তাহারাই এ রোগ এখানে আনিয়াছে। এই পথই তাহাদের যাইবার পথ। বহু পূর্ব্বেও এই সকল স্থানের সহিত বাণিজ্যসূত্রে ভারতবর্ষের লোকের অনেক গতিবিধি ছিল। এখনও রামায়ণ কথিত “রাম হাইদারের” কথা এখানে কথিত আছে।
এই বন্দরেরই অনতিদূরে “প্যারিম” দ্বীপ ইংরেজ অধিকৃত। ইংলণ্ড হইতে ভারতবর্ষ যাইবার পথে যতগুলি ইংরাজের অধিকৃত বন্দর আছে, এডেন তাহার মধ্যে একটি। জলের তলায় “টর্পেডো মাইন” বা তোপ দাগী আছে, শত্রুর জাহাজ আসিলেই ফাটিয়া উঠিয়া সে তোপ জাহাজকে চূর্ণ করিবে। “প্যারিম দ্বীপ” ইংরেজের দ্বারা অধিকৃত হওয়ার সম্বন্ধে ত্রৈলোক্যনাথ