বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এডেন্ বন্দর।
১৯

রিকার যুক্তরাজ্যে ঘরাও বিবাদ উপস্থিত হয়। “Uncle Tom’s Cabin” “খুড়া টম” নামক বিখ্যাত পুস্তকে দাসদের প্রতি নৃশংস অত্যাচারের কথা লেখাতেই দেশের সৎ লোকেরা এই প্রথা উঠাইয়া দিতে বদ্ধপরিকর হন। এক সপ্তাহের ভিতর পঁচাত্তর হাজার পুস্তক বিক্রয় হয় ও দক্ষিণে ধনকুবের আপত্তিকারীদের সহিত যুদ্ধ বাধে। যুক্তরাজ্যে তৎকালীন সভাপতি “এব্রাহাম্ লিনকন্” প্রাণপণ করিয়া এ দুষ্ট প্রথা রদ করেন। ইনি একজন অতি গরিবের ছেলে ছিলেন। কুড়ে ঘর হইতে শেষে রাজপ্রাসাদে উঠিয়াছিলেন। দুর্ব্বলের দুঃখমোচন করাই তাঁর জীবনের ব্রত ছিল। সুলেখক “থেয়ারের” লিখিত জীবনীতে এই প্রাতঃস্মরণীয় লোকের পবিত্র জীবন কাহিনী সবিশেষ বর্ণিত আছে। সকল লোকেরই স্বনামধন্য সেই মহাপুরুষের জীবনবৃত্তান্ত পড়া উচিত, বিশেষতঃ যে স্থানে গুপ্ত-হন্তারকের গুলি নিক্ষেপে তাঁহার পবিত্র জীবন, মুক্ত দাসদের অশ্রুকণা উপহার লইয়া এ লীলাভূমি ছাড়িয়া গেল। অতি দরিদ্র অবস্থায় এক জঙ্গলস্থ কুঁড়েঘরে জন্মাইয়া পরে নিজের চেষ্টায় যুক্তরাজ্যের রাজপ্রাসাদে অবধি উঠিয়া জনসাধারণ ও নিগ্রোজাতির কি যে অশেষ মঙ্গল করিয়া গিয়াছেন সে পুণ্যকর্ম্ম সকলেরই জানা উচিত।

 “এডেন” এই কথাটির মানে স্বর্গ। যদিও আমরা স্বর্গের কিছুই দেখিলাম না; তবুও অন্যান্য নিকটবর্ত্তী মরুভূমিময় স্থানের তুলনায় এই স্থানটি ভাল। ১৫০০ ফিট উচু এক আগ্নেয়গিরির উপরে অবস্থিত। ব্যবসার বাণিজ্য সম্বন্ধে পূর্ব্বকালে কতই সমৃদ্ধিশালী ছিল। পরে সুয়েজ খালের পথ হওয়ার পর হইতে আরও বড় ব্যবসায়ের স্থান হ‍ইয়াছে। এখন এখানে ৩০ হাজার লোকের বাস ও স্থানটি সুদৃঢ়রূপে রক্ষিত। প্রায় ১০০ বৎসর পূর্ব্বে এক আরবদেশীয় সুলতান ইংরাজকে ইহা দান করেন।

 পূর্ব্বে এই পথ দিয়াই মক্কা যাইবার যাত্রীদের কতই না কষ্ট ছিল।