লোহিত সমুদ্র ও সুয়েজ বন্দর।
এডেন বন্দর ছাড়িয়া কিছু দূর যাইলেই লোহিত সমুদ্রে পড়া যায়। সে স্থানটির কেন যে লোহিত সমুদ্র নাম হইল, তার কিছুই বুঝা যায় না। অন্য স্থানেরই মত সমুদ্র-জল নীল, তবে দুধারেই জমী নিকটে থাকায় একটু সবুজ মিশ্রিত নীল। মাঝে মাঝে ঈষৎ লাল এক রকম শেওলা জলে ভাসে, তাও বেশী নয়। এ ছাড়া আর কোনও কারণ দেখিলাম না।
এই শেওলাগুলিতে একটি অতি বিস্ময়জনক ঘটনা ঘটিয়া থাকে, তা অনেকেই জানেন না। অনেকগুলি লম্বা লম্বা দড়ির মত শেওলা একত্র মিলিয়াই ওই চাপ শেওলা হইয়াছে। প্রতি দড়িটি অনেকগুলি কোষ পাশাপাশি সন্নিবিষ্ট হইয়াই গঠিত। ওই এক একটি কোষ সজীব পদার্থ। তার প্রতিটির ভিতর কি একটি সজীব পদার্থ নড়িতে দেখা যায়। কোষের ভিতর হইতে হাত বাড়াইয়া তাহারা নিজেদের খাদ্যসামগ্রী ধরিয়া খায়। এবং অপর একটি কোষের সহিত মিলিত হইয়া সেই কোষটির গর্ভাধান ঘটায়। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এই সকল বিস্ময়কর পরিবর্ত্তন স্বচক্ষে দেখা যায়। প্রতি কোষ একা থাকিয়াও ভাগ হইতে পারে সত্য, কিন্তু (cell division) দুইটিতে মিলিত হইয়া যে নূতন কোষ হয়—সে আরও সুস্থ ও সতেজ হয়। তাই প্রকৃতির সর্ব্বত্রই এইরূপই নিয়ম।
চারিদিকে জমী থাকায় এ স্থানে সমুদ্র অন্যান্য সমুদ্র হইতে অনেক ধীর, যেন বড় পুকুরের মত। তাই জাহাজও বেশী দোলে না। আর আফ্রিকা ও আরব—উভয় দিকেই দারুণ উত্তপ্ত বালুময় মরুভূমি থাকায় স্থানটি বড়ই গরম। এই কারণে গরম কালে এখানে অনেক লোকের সর্দ্দিগর্ম্মী হয়। এই লোহিত সমুদ্রে তিন চারি দিন থাকিতে হয়।