বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২
বিলাত ভ্রমণ

 জাহাজ যাইবার পক্ষে এ সমুদ্রটিও বড় ভয়ানক। জলে নিমজ্জিত পাহাড় আছে—তাহাতে জাহাজ লাগিলে সে জাহাজের আর রক্ষা নাই। তাই ঐ সকল বিপদ সঙ্কুল স্থানে আলোক স্তম্ভ নির্ম্মিত আছে। ভিন্ন ভিন্ন গতিতে নানা রঙের আলো ঘুরিয়া বিশেষ বিশেষ স্থান জানাইয়া দেয়। তার মধ্যে এক স্থানে কতকগুলি একত্র অবস্থিত পাহাড়ের নাম “সাত শিষ্য” (Seven apostle) আর এক স্থানের একটি অর্দ্ধ নিমজ্জিত পাহাড়ের নাম (Diadalus) “ডায়েডেলস্”, সবগুলিই ভয়ানক স্থান।

 লোহিত সমুদ্র বেশী চওড়াও নয়। অনেক স্থলেই একদিককার বা অপর দিকের জমী ও পাহাড় দেখা যায়। অনেক স্থলে দুদিকেরই জমী দৃষ্টিগোচর হয়। ইহুদীরা যখন মিশর দেশ হইতে পলাইয়া আসিতেছিলেন, এই সকল অপ্রশস্ত স্থানের কোনও স্থান দিয়াই বোধ হয় তাঁহাদের যাইবার জন্য জলের মধ্য হইতে শুকনা পথ বাহির হইয়াছিল।

 এই অল্প আয়তন স্থান দিয়া, এসিয়া হইতে ইউরোপ যাইবার অধিকাংশ জাহাজকেই যাইতে হয় বলিয়া এখানে অনেক জাহাজের সহিত দেখা হয়। সবাই তখন সকল কাজ ফেলিয়া এক দৃষ্টে পরস্পরকে দেখে—ও আনন্দের ধ্বনি তুলিয়া পরস্পরের শুভবার্ত্তা জানায়। পথে জাহাজ দেখিলেই তার নাম ধাম ও পথের খবর লইয়া পরবর্ত্তী বন্দরে গিয়া খবর দিতে সকল জাহাজই বাধ্য। এই নিয়ম থাকাতেই অকূল সমুদ্রে জাহাজের খবরাখবর হয়।

 পুরাতন ভূগোল লেখক পণ্ডিত টলেমী আরব দেশকে নানা ভাগে বিভক্ত করিয়াছিলেন। যথা—“মরুময় আরব”, “প্রস্তরময় আরব,” ও “সুখের আরব”। চারিদিকের সমুদ্র ধারের জমীগুলি কতক বা উর্ব্বরাক্ষেত্র কতক বা প্রস্তরময় কিন্তু ভিতরকার সব অংশ মরুভূমি। এখানে অতি সামান্য বৃষ্টি পড়ে বলিয়া এই সমস্ত দেশে একটিও বড় নদী নাই।