পুরাতন ইতিহাসে এই সকল স্থান প্রসিদ্ধ স্থান ছিল। বাম ধারে “অবিসিনিয়া,” “নিউবিয়া” ও “মিশর।” যত দেশের পুরাতত্ত্ব জানা আছে, তার মধ্যে মিশর দেশই সর্ব্বাপেক্ষা পুরাতন। খৃষ্টপূর্ব্ব পাঁচ হাজার বৎসরের আগেও তাহাদের সভ্যতার খবর পাওয়া যায়। এই খানেই রাণী “ক্লিওপেট্রা”র রাজ্য ছিল। এইখানেই এখনও সেই সকল পুরাতন পিরামিড্ বর্ত্তমান আছে। আর ডান দিকে আরবদেশে মুসলমানধর্ম্মের সংস্থাপক মহম্মদের জন্ম। মক্কা ও মেদীনাই তাঁহার লীলাভূমি ছিল। সে সকল দেশ লোহিত সমুদ্রের খুব ধারে ধারে। সুয়েজে ঢুকিবার পথেই ডান দিকে “সাইনে পর্ব্বত”। এই পুণ্য ভূমিতেই “মোসেস্” প্রথমে ঈশ্বর কথিত দশটি আজ্ঞা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন।
খৃষ্টধর্ম্মের উৎপত্তিস্থান “পেলেষ্টাইন” এখান হইতে কতক দূরে। মরুময় আরব দেশেই কেন যে এই দুইটি ধর্ম্মের উৎপত্তি হইয়াছিল, বুঝা যায় না। যেখানে গাছ পালা ফুল ফল ও জীবনের অন্যান্য ভোগ্যবস্তু কম, সেইখানেই কি ইহসংসারের উপর বিরাগ আপনিই আসে। তাহলে শস্য-শ্যামলা ভারতবর্ষেই বা কেন হিন্দুধর্ম্ম ও বুদ্ধধর্ম্মের আবির্ভাব হলো। সমস্ত পৃথিবীই হয় আরবদেশের নয় ভারতবর্ষের ধর্ম্মেই দীক্ষিত। অন্য কোথাওতো এমন ধর্ম্ম প্রচারকগণ জন্মেন নাই।
সুয়েজের কাছে যাইয়াই আবার সমুদ্র বিষম তরঙ্গময় হইয়া উঠিল। অতি তেজে হাওয়া বহিতে লাগিল। জাহাজ অত্যন্ত অস্থির হইল। সুতরাং সেদিন বৈকালে বন্দরে নোঙ্গর করিলেও কেহ তীরে নামিতে পারিলেন না, বা তীর হইতেও কেহ জাহাজে আসিতে পারিলেন না। কেবল আমরা জাহাজের উঁচু ডেকে দাঁড়াইয়া দুই ধারের বালুকাময় ও কাল কাল পাহাড়যুক্ত জমীর, ও বড় বড় তরঙ্গপূর্ণ সমুদ্রজলের, ও দূরস্থ সুয়েজ বন্দরের অপূর্ব্ব ভীষণ শোভা দেখিতে লাগিলাম।
সুয়েজ বন্দরটি অতি ছোট বন্দর। যে স্থানে সে দেশীয় লোকের