বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪
বিলাত ভ্রমণ

বাস, সে স্থান এখান হইতে অনেক দূরে। গাধায় চড়িয়া যাইতে হয়, অন্য কোনও যান পাওয়া যায় না। বন্দরে সব পাথরের উচু উচু বাড়ীগুলি সমুদ্রের ধারে ধারে নির্ম্মিত; তাহার অধিকাংশই সওদাগরদের মাল রাখিবার গুদাম—বড় একটা লোকবাসের নহে। অনেক কল কারখানাও আছে। স্থানটি দুটি অংশে বিভক্ত। সুয়েজের খাল এই দুটির মধ্য দিয়া কাটা। তার উপর দিয়া এক চওড়া পাথরের প্রাচীর গাথা—ইহারই উপর সুয়েজের রেল চলে। এইখানেই বিলাতী মেল জাহাজ হইতে এই রেলে দেওয়া হয়—ও সেই রেলযোগে সুয়েজ খালের ধার দিয়া সে ডাক এলেকজান্দ্রায় পৌঁছায়, সেখান হইতে আবার জাহাজে করিয়া বৃন্দিসি বন্দরে যায়, আবার রেলযোগে ও ষ্টীমারে ইটালী ফ্রান্স ও ইংলিশ চ্যানেল পার হইয়া বিলাতে পৌঁছায়। সে সাত সমুদ্র তের নদীর পথ। এত দূর হইতেও ইংরেজ আসিয়া,—ত্রিশ কোটী লোককে শাসন করেন। এর কারণ কি? কারণ আর কিছুই নহে, তাঁহাদের বুদ্ধির বল, সুব্যবস্থা, ও সতত উন্নতির চেষ্টা। আর আমাদের নিশ্চেষ্ট হয়ে নানারূপ সূক্ষ্ম বিচার ও পরচর্চায় মূল্যবান্ সময় কাটান।

 জাহাজ নোঙ্গর করিলে অনেক মিশরবাসী নানারূপ দেশী ও বিদেশী দ্রব্যাদি লইয়া জাহাজে বেচিতে আসিল। তারা আমাদের দেশের লোকের অপেক্ষা অনেক ঢেঙা, অনেক বলিষ্ঠ ও ফরসা রং বিশিষ্ট। তাহারা ঢলঢলে ইজেরের উপরে পা অবধি লম্বা একটি আলখেল্লা পরে। তাতে বেশ সুসভ্য ও সুশ্রী দেখায়। মাথায় একটি রঙ্গিন কাপড়ের পাগড়ী। আরব দেশের লোকেরা এইরূপই পোষাক করে। আমাদের অপেক্ষাও গরম দেশ, কিন্তু তবুও লম্বা সুসভ্য পোষাক পরা তাহাদের দেশের বিধি। আমাদের বাঙ্গালা দেশের কি স্ত্রী কি পুরুষ সকলেরই নিত্যকার পোষাক সম্বন্ধে অনেক কথা শিখিতে আছে। তাহারা অতিশয় বলিষ্ঠ; জিনিষ পত্র হাতে লইয়াই নৌকার মাস্তুল বহিয়া জাহাজে উঠিতে