লাগিল। তাহাদের মুখের ভাব কিন্তু একটুও মধুর নহে। যেন তাতে কুবাসনা ও দস্যুবৃত্তি সর্ব্বদাই জাগিয়া আছে। আরব দস্যুর কথা তো সকলেই জানেন, তাহারা বড়ই ভয়ানক; উটে চড়িয়া পথে পথে ধনলুণ্ঠন, দল সংগ্রহ ও নরহত্যা করে। মিশরের রাণী ক্লিউপেট্রার চরিত্র হইতেই যেমন দেখা যায়—তাদের হাব ভাব এই হিসাবে বড়ই হীন।
আরব ও মিশরে জিনিষ পত্র ইউরোপবাসীরা প্রবাস হইতে বাড়ী ফিরিবার কালে বড়ই আদর করিয়া কেনে। আসিয়া আফ্রিকা এই সকল দেশই ইউরোপের খুব নিকটবর্ত্তী। মিশরেই কিন্তু কথায় কথায় তাঁহারা শীতকালে পরিবর্ত্তনে আসেন। যত কিছু পুরাতত্ত্ব মিশর লইয়াই গঠিত। অন্যান্য সকল পুরাতন দেশের সঙ্গে তুলনায় তারাই সর্ব্বাপেক্ষা পুরাতন জাতি বলিয়া সাব্যস্থ হইয়াছে। সেই খানেই অতি বিস্ময়কর পিরামিড আছে ও অন্যান্য নানা প্রকার প্রত্নতত্ত্বের স্থান। সেই কারণেই মিশর ও মিশরদেশীয় যা কিছুর এত আদর। বাড়ী ফিরিবার কালে সবাই বৈঠকখানা সাজাইবার ও বন্ধু বান্ধবদের উপহার দিবার জন্য এখানকার জিনিষপত্র কিনেন। আমিও কিছু কিছু কিনিয়াছি; যখনই সেগুলি দেখি সেই স্থানের ও সেই দেশের কথা অহরহ মনে পড়ে। এই সকল দ্রব্যের কতকগুলির সংক্ষেপে বর্ণনা করিতেছি।
বলা বাহুল্য মিশর একটি বিখ্যাত তামাকপাতা ও সিগারেটের দেশ। সেই সকল বহু পরিমাণে এখান হইতে রপ্তানি হয়। ছোট ছোট বাক্স করিয়া সেই সকল সিগারেটও জাহাজে বেচিতে আনে। সে কৌটাগুলির অনেকগুলির সামনে নগ্ন স্ত্রীমূর্ত্তি আঁকা। ছেলে বুড়া সবাই বাছিয়া বাছিয়া সেই কোঁটাগুলিই কিনে।
আর একটি কিনিবার জিনিষ—কাঁচ ও পলাকাটি নির্ম্মিত গলার হার। সেগুলিতে বহু রকমের রং বিন্যস্ত আছে। গলায় পর বা হাতে জড়িয়ে রাখ, অতি সুন্দর দেখায়। দেখিলেই কিনিতে ইচ্ছা হয়। যত রমণীর