বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সুয়েজের খাল।

 সন্ধ্যার সময় আমরা সুয়েজখালে ঢুকিলাম। তখন অন্ধকার হইয়াছে—তাই কেবল ক্ষীণ দীপালোকে আলোকিত চতুর্দ্দিকের দৃশ্য অস্পষ্ট ভাবে দেখা গেলমাত্র; ভাল করিয়া তেমন বুঝা গেল না।

 জাহাজ দিনরাতই চলে, তবে সুয়েজখালে অতি আস্তে আস্তে গিয়া থাকে, তার কারণ অপ্রশস্ত খালের দুই ধারই বালুময়। জোরে জাহাজ চালাইলে জলের বেশী আন্দোলনে দুই ধারের বালু পাছে ঝরিয়া যায়, এই আশঙ্কা। খালটি স্থানে স্থানে অতি অপ্রশস্ত ও অনতিগভীর। অনেক স্থানে এমন কি দুটি জাহাজ পাশাপাশি যাইতে পারে না। বড় জাহাজ বা চওড়া জাহাজ যে অনেক জল ভাঙ্গে সে সব জাহাজও এখান দিয়া আসিতে পারে না। তাই রুষ-জাপান যুদ্ধে এডমিরাল রুডোভিনস্কির জাহাজ “কেপ্ অব্ গুড্‌হোপ” ঘুরাইয়া আনিতে হইল। মাঝে মাঝে কতক বিস্তীর্ণ লোণা জলের হ্রদ আছে, খাল সেইগুলির সহিতই সংযুক্ত। একটি জাহাজ সেইখানে দাঁড়াইলে, অপরটি পাশ কাটাইয়া যায়। খালেও অপর এমন সকল স্থান আছে যেখানে পাশাপাশি যাইতে পারে। এখন অল্প অল্প করিয়া কাটিয়া খাল চওড়া করা হইতেছে।

 খালটি ১০০ মাইল লম্বা, তবে জাহাজ অত আস্তে যায় বলিয়া পার হইতে প্রায় দুইদিন লাগে। অল্প গভীর ও অল্প প্রশস্ত এই খালে জাহাজ ঢুকিলেই জলগুলি উপচাইয়া ধারের বালুর উপর উঠিয়া ফেনাইতে ফেনাইতে বাণডাকার মত ছুটে; তাতেই দেখা যায়— অনেক বালু ঝরিয়া পড়িতেছে, তাই এখন ধরেে ধারে ইটের ছোট প্রাচীরে বাঁধান হইতেছে। লোকজন খাল পরিষ্কার রাখিবার জন্য অনবরত মজুত আছে। তারা সব