বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সুয়েজের খাল।
২৯

সেই দেশেরই লোক—কাল যণ্ডা ও নীল আলখাল্লা পরা। উটের পিঠে করিয়া কাটা বালি বোঝাই করিয়া দূরে ফেলিতেছে।

 এস্থানে এমন মরুভূমির স্থান যে, দুইধারে বালুময় মাঠ বই আর কিছুই দেখা যায় না। অনেক স্থানেই গাছপালার চিহ্নও নাই। এমন কি একটু শেওলা বা পানা বা ঘাসও দেখা যায় না। তবে আজকাল একরূপ অনেক শিকড়বিশিষ্ট লতান গাছ রোপণ করা হইতেছে। সে গাছগুলি পুরীর সমুদ্রধারের বালুময় স্থানগুলিতে বালু উড়া বন্ধ করিবার জন্য বিস্তর দেওয়া আছে—দেখা যায়। “কনভলভুলস্” শ্রেণীর গাছ। এক স্থান হইতে অল্পদিনেই চারিদিকে লতাইয়া জমিতে ঘন ঘন শিকড় চালায়—ও যত শুক্‌না জমি হউক না কেন তা হইতে রস শুষিয়া জীবন ধারণ করে। অতি অল্প দিনেই চারিদিকে ছড়াইয়া পড়াতে—ও অনেক স্থানে শিকড় আছে বলিয়া—এক স্থান মরিলেই অপর স্থান মরে না। আর প্রতি শিকড়গুলি অনেকগুলি বালুকে একত্র করিয়া রাখে, তাই বালিও ভাঙ্গে না। এইরূপ নানা সুবিধার জন্য এই গাছই এরূপ স্থানে এত উপকারী। যেমন ধান গম আমাদের খাদ্য জোগায় ও বাঁশ খড় শাল সেগুন আমাদের ঘর বাঁধিয়া দেয়, এবং কার্পাস শিমুল আমাদের বস্ত্র আনে,তেমনি এই সকল গাছও স্থান বিশেষে এত কাজে লাগে। সকল জিনিষেরই এমনি উপকারিতা আছে, বিজ্ঞানের সাহায্যে মানববুদ্ধি সেইগুলিকে অনুসন্ধান করিয়া নিজের কাজে লাগাইতেছে। যে এইরূপে প্রকৃতির বিভিন্ন দ্রব্যগুলিকে ও শক্তি সমূহকে বুদ্ধিবলে আপন কাজে লাগাইতে পারে সেই জয়ী—সেই কৃতকার্য্য—সেই রাজা।

 অমন স্থানে কিনারায় থাকিবার তো জায়গা নাই; তাই জলের উপরেই একরূপ দোতালা বাড়ীর মত বোট আছে, সেইখানে কর্ম্মচারীরা থাকে। তবে মাঝে মাঝে সুন্দর সুন্দর ইষ্টিসনও দেখা যায়। জলের ধারেই নূতন বাংলা গাঁথা। সেগুলি অতি সুন্দর স্থান। ভীষণ স্থানের