বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
বিলাত ভ্রমণ

পাশে থাকিয়া আরও সুন্দর হইয়াছে। সেখানে অনেক গাছ পালা দেখা যায়। ওদিককার প্রসিদ্ধ ঘন পাতাযুক্ত খেজুর গাছ তো আছেই তা ছাড়া বিস্তর ফুল গাছও দেখা যায়। কর্ম্মচারীরা অতি যত্ন করিয়া টবে করিয়া সেগুলিকে রক্ষা করে। অনেকগুলিতে ফুল ফুটা ছিল—দেখে চোখ জুড়াল। লোক অতি কম—তবে অনেকগুলি সে দেশীয় ছেলেদের খেলা করিতে দেখিলাম। অন্য দেশের ছেলের মত তারাও মরুভূমির মাঝে নেচে হেসে খেলা করচে। আবরু প্রথা সকল মুসলমান দেশেই এত প্রচলিত বলিয়া, এ সকল স্থানে স্ত্রীলোক বড় একটা দেখা যায় না, তাই এ সকল স্থান আরও ভীষণ মরুভূমি বলিয়া মনে হয়। তবে একটি স্থানে দুটি আরব রমণী দেখিলাম। তার মধ্যে একজন অর্দ্ধাবগুণ্ঠিতা, আর এক স্থানে একটি অতি সুন্দর দৃশ্য দেখিলাম—ফরসা ইউরোপীয় রং বিশিষ্ট ও আরবের মুখশ্রী লইয়া একটি শিশু তীরে দাঁড়াইয়া ছিল। দুটি জাতির মাধুর্য্যের একত্র সমাবেশ—কি সুন্দর হইয়াছে—এইরূপ সুন্দর দৃশ্য আমি চীনেও দেখিয়াছি। সমাজের কঠিন নিয়ম তুচ্ছ করিয়া এ মরুভূমেও মানবপ্রকৃতি আপনার আধিপত্য দেখাইয়াছে।

 এই সকল দেশ একরূপ ভোজবাজীর দেশ, চারি পাশে মরুভূমির বালুর উপর সব ছায়া দেখা যায়। যেন জলেরই প্রতিবিম্ব। একেই মিরাজ বা “মরীচিকা” বলে। মরুভূমির তপ্ত বালুর উপরকার বালুস্তর বিভিন্ন রূপে উত্তপ্ত হইয়া এইরূপ ছবি দেখায়। ইহাই “মৃগতৃষ্ণা”, এইরূপ প্রতিবিম্বকেই জল হইতে প্রতিবিম্ব মনে করিয়া শুষ্ককণ্ঠ মৃগ চারিদিনে জলপান আশায় ছুটে। প্রতি দিনকার মানব হৃদয়েরই অতৃপ্ত বাসনার সঙ্গে তার অনেক সৌসাদৃশ্য আছে।

 উটগুলি এই মরুভূমিরই জন্তু; এই মরুভূমিতে থাকিবার উপযুক্ত করিয়াই তারা সৃষ্ট হইয়াছে। তপ্ত বালুর উপর বেড়াইবার জন্য পায়ের তলাগুলি চেপ্টা ও নরম। সে স্থানের হাওয়া উত্তপ্ত বালুকণামিশ্রিত