বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সুয়েজের খাল।
৩১

বলিয়া—তাদের চোখ নাক ও কানের জন্য চামড়ার আবরণ আছে, টানিয়া দিয়া বন্ধ করা যায়। দাঁতগুলি মরুভূমির দগ্ধ শুক্‌না ও শক্ত ঘাস উপড়াইয়া খাইবার অনুরূপ। নীচে পাটীর সামনের চেপ্টা দাঁতের উপর—শক্ত মাড়ীর স্তর। পিটে উচু কুব্জের মত থাকে—সেগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষদ্বারা গঠিত। অনেক দিন মরুভূমে খাদ্য ও জলহীন হইয়া থাকিতে হয় বলিয়া এই সকলের ভিতর উট জল পান করিয়া ও আহার করিয়া জল ও খাদ্য রস ভরিয়া রাখে। এই গুলি হইতে সার রস শোষণ করিয়া বহুদিন ধরিয়া উপবাসী উট মরুভূমে বাঁচিয়া থাকে। বীজের ভিতর যেমন শস্য ভ্রুণের আহার্য্য থাকে এ সকল জীবও আহার সঙ্গে রাখিয়াই বাঁচিয়া থাকে।

 বোঝাই লইবার কালে উট আপনিই বসে, ও বাঁশি বাজাইলে চলিয়া যায়। এ সকল দেশে উষ্ট্রই গৃহ পালিত পশু। আমাদের দেশের গরুর মত কত উপকারে লাগে। মোট বয়, দুধ দেয়, ও শরীরের মাংস দিয়া আরব দেশের লোককে খাওয়ায়। তার আর একটী আদরের নাম “Ship of the desert” অর্থাৎ মরুভূমির জাহাজ। দলে দলে সুশিক্ষিত এই সকল উট ইঙ্গিতে মানবের হিতকর এই সকল কার্য্য করিতেছে দেখিলে এক অপূর্ব্ব ভাব মনে আসে।

 এ ছাড়া কতকগুলি মিউল বা অশ্বতরও দেখিলাম। সেগুলি গাধা ও ঘোড়ায় দো-আসলা জাতি। খর্ব্বাকৃতি কিন্তু বড়ই কষ্টসহিষ্ণু। দো-আসলা জাতির এই গুণ চিরপ্রসিদ্ধ। তাহারা মরিয়াও মরে না—অতি হীন অবস্থায় জীবন রক্ষা করিতে পারে। যে দুইটী জাতি মিশ্রিত হইয়া তাহারা হইয়াছে সেই দুটি জাতিরই কষ্ট সহিবার ক্ষমতা লইয়া জন্মায়। তাই তারা এত কর্ম্মঠ। তাই প্রকারান্তরে পশুপালকেরা পশুর শক্তি ও ক্ষমতা জন্মাইবার জন্য এইরূপ নিয়মের সময়ে সময়ে সাহায্য লয়। অশ্বতরেও বিশেষ উপকারিতা এই কারণে এরূপ পশুর দোষ এই যে ইহারা ফলবান হয় না—অর্থাৎ ইহাদের বংশরক্ষা করিবার ক্ষমতা নাই।