বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২
বিলাত ভ্রমণ

 এ ছাড়া আরব দেশে সুন্দর সুন্দর ঘোড়া আছে—সে ঘোড়া পৃথিবীর সকল স্থানে আদরণীয়। তাহারই সঙ্গে দো-আসলা করিয়া পৃথিবীর অনেক শ্রেণীর ভাল ভাল ঘোড়া হইয়াছে। আরব ঘোড়া কত বুদ্ধিমান্ কত প্রভুভক্ত। তার অনেক দৃষ্টান্ত সকলেই জানেন। প্রভুর কাজে তারা মরিতেও কুণ্ঠিত হয় না।

 এই জায়গায় এক স্থানে একটি আরবদেশের ফকিরকে দেখিয়াছিলাম। তাদের “সুফী” বলে। তারা অনেকটা আমাদের দেশের সাধুদেরই মত। বেদান্তের মত মত ও খিষ্টিকদের মত ধর্ম্ম বিশ্বাস। আসন-পিড়িতে বসিয়া ধ্যান করে। তাদের কথা বারান্তরে বলিব।

 গেল বারের আরব দস্যুর ছবিতে যে দস্যুদের প্রতিমূর্ত্তি দেখান হইয়াছে তারা সব “বুডিন” জাতীয় আরব। দস্যুবৃত্তিই তাদের অধিকাংশ লোকের পেশা। ইহারা আরবের সেনা স্থানে থাকিয়া কঠিন পরিশ্রম করে বলিয়া ইহাদের শরীর বড়ই পটু ও মাংসপেশী শক্ত ও দৃঢ়। মুসলমান ধর্ম্মের সংস্থাপক মহম্মদ এই জাতীয় ধাত্রীর হাতেই লালিত পালিত হন। তাঁহার মাতা ছেলেকে সবল ও সুস্থ করিবার জন্য তখনকার প্রথা অনুসারে বুডিন জাতীয়া এক ধাত্রীর হাতে তাহার লালন পালন ভার দিয়াছিলেন। পাঁচ বৎসর পরে যখন ধাত্রী ছেলেকে ফিরাইয়া দিতে আসিল মা ছোট ছেলের দৃঢ় গঠন দেখিয়া তাহাকে আরও দৃঢ় করিবার মানসে ধাত্রীকে ছেলে ফিরাইয়া পূর্ব্বস্থানে লইয়া যাইতে বলিলেন। এমন মা ও এমন ধাত্রী ছিল বলিয়াই মহম্মদ এমন কর্ম্মবীর হইয়াছিলেন। এই বুড়িন জাতীয় আরবেরা অতি সুপুরুষ ও বন্দরে ও এই সকল স্থানে অনেক দেখা যায়।

 এই খালের এক প্রান্তে যেমন সুয়েজ—তেমনি অপর প্রান্তে “সৈয়েদ্” বন্দর বর্ত্তমান; আর এ দুইয়ের মাঝে অর্থাৎ কেনালের অর্দ্ধ পথে ইসলামিয়া সহর অবস্থিত। এ স্থানটি ছোট ও দেখিতে যেন ছবির মত,