বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সুয়েজের খাল।
৩৩

একটি লোনা হ্রদের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে এমন কদর্য্য স্থান আর ছিল না। ম্যালেরিয়া প্রভৃতি কীটাণুজ রোগের এত প্রাদুর্ভাব ছিল যে ইউরোপবাসী যে এখানে আসিত সেই মরিত। অথচ স্থানটি ব্যবসা বাণিজ্যের পক্ষে বড়ই সুবিধাজনক। কোনওরূপে দাঁড় করান চাই। এইরূপ স্বার্থের চেষ্টায় প্রণোদিত হইয়া কতরূপ পরীক্ষাই চলিতে লাগিল। এই সময়েই “রসেব” (Mosquito malaria theory) মশাও ম্যালেরিয়া রোগের সহিত যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে সেই আবিষ্কার প্রচার হয়। মশা কামড়েই এক রোগী হইতে অপর রোগীতে ম্যালেরিয়া রোগ যায়। অতএব মশা হনন করিলেই সে রোগ থামিবে। এখন মশা মারা তো সোজা নয়। কি করে মশাকে নির্ব্বংশ করা যায়, এই অনুসন্ধান করিতে করিতে জানা গেল যে মশার বীজ প্রথমে জলে থাকে তাই জল জমা বন্ধ করিয়া ও জলের উপর কেরাসীন্ তেল ঢালিয়া আগুন দিয়া মশার বীজ মারাতে এখন ম্যালেরিয়া এখানে অনেক কমিয়াছে। এমন মারীভয় ছিল বলিয়া সেখানে কেহ যাইতে চাহিত না। জমির দাম ছিল না। কতক স্বাস্থ্যকর হওয়াতে এখন তাহার কত দাম বাড়িয়াছে।

 বুদ্ধি বলে মানুষ কিনা করিতে পারে? সেই বুদ্ধির সাহায্যে ক্ষুদ্র মানব প্রকৃতির বিশাল রাজ্যে দিন দিন কিরূপ ক্ষমতা বিস্তার করিতেছে। সাগর বাঁধিয়াছে, পাহাড় কাটিয়া সুরঙ্গ করিয়া পথ করিয়াছে, জলস্রোত হাওয়া তার ভৃত্যের মত কাজ করে, আর স্বয়ং অগ্নি কল চালাইয়া তাকে সাহায্য করে; এমন ব্রহ্মাণ্ড প্রসারী মহতী মানববুদ্ধিকে আমি শতবার নমস্কার করি।