বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সৈয়দ বন্দর।
৩৫

তাদের দোকানপশার দেখিতে অনুনয় করে। তাহারা যে কত রকমের ভাষা জানে, তার অন্ত নাই। একজনের সঙ্গে ফরাসী ভাষায় কথা কহিয়াই অপর একজনের সঙ্গে তুর্কীতে কথা কহিল। অধিকাংশ লোকই ইংরেজী বুঝে, যদিও পূর্ব্বোক্ত দুইটি ভাষাই বেশী প্রচলিত। তাহাদের অনেকে হিন্দিও জানে। আমাদের কালো মুর্ত্তি দেখিয়া দেশ চিনিয়া বলে,—“কই জাগ্যা দেখনেকো যাইয়ে গা।” এ কথাটির মানে অনেক। সব শুনিয়া কাজ নাই। খবরের কাগজ ওয়ালারাও কাগজ বেচিতে আসে।

 সে দেশের বিশেষ কিনিবার দ্রব্যসামগ্রীগুলি সব সুয়েজেরই মত। সেই মিশরের প্রত্নতত্ত্বের ছাপাবিশিষ্ট পোষ্টকার্ড, সুগন্ধ মধুর সিগারেট, বস্ত্রবক্ষে ছবি আঁকা কার্পেট্, কাঁচ ও প্রবালের হাড়, মিশরের জন্তুদেহবিশিষ্ট দেবমূর্ত্তির পদক, আর সেই ছোট ছোট ফুলের খাতা। সেগুলি এমন মনোহর যে ইচ্ছা হ’ল সিন্দুকে ভরিয়া লইয়া গিয়া দেশে আপনার লোকদের দিই। আবার কিনিলাম, আর বহুক্ষণ হাতে করিয়া তার সুন্দর রঙ্গবেরঙ্গের উজ্জ্বল রেখাগুলি অনিমেষে দেখিতে লাগিলাম। ফুলের স্বভাবজাত সুগন্ধ তখনও তাতে ভরা।

 প্রতি বন্দরে বন্দরে লোক বা মালপত্র নামাইবার আগে বন্দরের ডাক্তার আসিয়া লোকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। তখন নাম অনুসারে সবাইকে সার দিয়া দাঁড়াইতে হয়; আর তিনি দেখিয়া যান। জাহাজের উপর এ সব নিয়ম ঠিক যুদ্ধক্ষেত্রেরই মত কড়া। প্লেগ প্রভৃতি রোগ এক দেশ হইতে পাছে অন্য দেশে কেহ লইয়া যায়, এই আশঙ্কায় এত কড়া ব্যবস্থা। আর অত লোকের একত্র পরীক্ষার এতটা সুনিয়ম থাকায় এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কাজ সমাধা হয়। ইহা দেখিলে, সুনিয়ম ও সুব্যবস্থার, কার্য্যের অল্পকালের মধ্যে সম্পাদন ও সিদ্ধি সম্বন্ধে কত যে প্রয়োজনীয়তা তা বুঝা যায়। ইউরোপের সকল জাতির ভিতর এইরূপ সুব্যবস্থা আছে; আমাদেরই নাই তাই আমরা অব্যবস্থিত ও হীনবল।