মিশরের একজন গণৎকার আসিয়া লোকের ভাগ্য গণনা করিল। সবাই তাহাকে হাত দেখাইবার জন্য ব্যস্ত; তার অধিকাংশই অল্পবয়সী রমণী। কতক্ষণ পরে হাসিতে হাসিতে এক সুহাসিনী তাঁর হাত বাড়াইলেন। গণক বলিল,—“বাঁ হাত দেখাও।”—“আমাকে কেহ কি ভালবাসে”? এই কথার উত্তরে গণক বলিল,—‘অন্ততঃ ছয় জন তোমার প্রণয়ার্থী।’ তিনি তাহাকে একটি শিলিং দিলেন। আর এক যুবা সওদাগর হাত দেখাইলে গণক বলিল—“তোমার মালপত্র সব অগ্নিতে ভস্মসাৎ হইবে।” তিনি তাহাকে কিছুই দিলেন না। আর একজন ম্লানমুখী রমণীকে গণক বলিল—“তোমার প্রিয়জন অন্য রমণীতে অনুরক্ত”—তাঁর মুখ আরও বিষণ্ণ হইল।
একজন বাজীকর আসিয়া বাজী দেখাইল। এক সাহেবের ও এক মেমের নিকট হইতে এক একটি আংটী লইয়া গিলিয়া ফেলিল, পরে সেই আংটা দুইটি আবার তাহাদেরই আঙ্গুলে দেখা গেল—বদলা বদলী হইয়াছে। আর অমনি হাসির রোল।
নীচে জলের উপর ছোট বোটে করিয়া দুইটি ইটালীয় বালিকা ও দুইটি পুরুষ সেতার বেহালা ও ব্যান্জো বাজাইয়া গান শুনাইতে আসিল। যাত্রীরা তাহাদের মধুর গানে মুগ্ধ হইয়া জাহাজের উপর হইতেই তাহাদের ছোট ছোট রৌপ্যমুদ্রা ছুড়িয়া দিতে লাগিল। তাহারা ছাতা খুলিয়া সেইগুলি ধরিতে লাগিল, কিন্তু অনেকগুলি জলে পড়িয়া লোকসান হইল। তাহারা প্রায় আমাদেরই মত কালো। সাহেবদের ও মেমদের মত পোষাক পরা ও আমাদের দেশের মত কাল ঝাকড়া ঝাকড়া চুলবিশিষ্ট। আর সে মেয়ে দুটি কি ঠিক আমাদের বাঙ্গালী মেয়ের মত—তেমনি বড় বড় ভাব মাখান চোখ, তেমনি মুখের মধুর ভাব। ইংরাজ প্রভৃতি ইউরোপিয়ানদের রমণীর মত উজ্জ্বল বর্ণও নহে বা মুখের অমন স্বাধীন প্রদৃপ্ত ভাবও নহে। আর তাদের গানগুলিও অতি মধুর আমাদেরই গানের মত ভাবাতিশয্যে