স্যৈয়দ্ বন্দর।
জাহাজ হইতে কিনারা অতি সন্নিকট। কিন্তু সেই অল্প পথই নৌকায় করিয়া নামিতে হয়। তার ভাড়াও অনেক; এমন ভাড়া কোথাও দেখি নাই। দিনের বেলা প্রতি জনা পিছু তিন আনা লাগে আর রাত্রি বেলা ছয় আনা। পূর্ব্বে নাকি আরও বেশী ছিল। সুলতানের আমলে যা চাহিত তাই দিতে হইত। মাঝিরা নাকি নৌকা আধ পথে লইয়া গিয়া আর যাইব না বলিয়া, ভয় দেখাইয়া বেশী ভাড়া আদায় করিত। এখন ইংরেজের শাসন আমলে সবই নিয়মে বাঁধা।
নামিবামাত্র একজন তুরস্কদেশীয় ভদ্রলোক হাত বাড়াইয়া আমাদিগকে উপরে উঠাইয়া লইল এবং বলিল—“আপনারা কি স্থানটি দেখিতে ইচ্ছা করেন? আমি একজনা প্রদর্শক। আমাকে দু-সিলিং দিলেই আমি আপনাদের সব স্থান দেখাইয়া আনিব।” আমরা সম্মত হইয়া একখানি ভাড়া ফিটন্ লইয়া দেশ দেখিতে চলিলাম। ফিটন্ খানি রবার টায়ার দেওয়া ও প্রতি ঘণ্টায় তার দুই শিলিং ভাড়া।
সহরটি নূতন, রাস্তাগুলি চওড়া। বাড়িগুলি সারি সারি গাঁথা; তার নীচেতলা সবই দোকান। দোকানগুলি অতি সুসজ্জিত এবং দেশীয় ও বিদেশীয়; তাতে নানারূপ জিনিষ বিক্রয় হয়। অধিকাংশ দোকান ফরাসী জাতীর বা মুসলমানের হাতে। ইংরেজের হাতে অল্পই আছে। সবাই ফরাসী ভাষা কয়। অষ্ট্রীচ্-পালক, ইজিপ্টের প্রত্নতত্ত্বের ছবি, নানারূপ পরিধেয় দ্রব্য সামগ্রী ইত্যাদি। বড় রাস্তার ধারে ধারে ও সমুদ্রের তীরে বাঁধা রাস্তার উপর অনেক মদের দোকান। তাকে ফরাসী ভাষায় ‘কাফি’ বলে। অর্থাৎ সেইখানে মদ “কাফি-চা” ইত্যাদি পাওয়া যায়।
এ দেশের কাফি অতি বিখ্যাত। ছোট পেয়ালা করিয়া দুধ চিনি