বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্যৈয়দ্ বন্দর।
৩৯

বিহীন কাফি পান করা হয়; আর তার সঙ্গে মদ। অনেকগুলি বেকার বদমায়েস্ সেইখানে বসিয়া দিন রাত আড্ডা দেয়। সুবিধা পাইলে লোকদের ঠকায়। অনেকগুলি ইটালিয় বালিকা এখানে থাকিয়া—কনসট্ বাজাইয়া ও গান গাহিয়া লোকদের মনোরঞ্জন করে। সেটি একটি এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কারে প্রকারে অনেক লোক দুষ্ট লোকের প্ররোচনার ফাঁদে পড়িয়া যান। নিকটেই জুয়া খেলা হচ্চে। অনিচ্ছুক বিদেশী হয় ত অনেক আপত্তির পর রাজী হইয়া এক দান খেলিলেন। বিস্তর জিত হইল; আবার খেলিলেন,—আবার জিত হইল। নেশা চড়িতে চড়িতে এত প্রবল হইয়া উঠিল যে, শেষে সর্ব্বস্ব সেই খানে দিয়া জাহাজে ফিরিয়া আসিলেন।

 হয় তো একজন সুবেশী ছোট ছেলে এসে বল্লে—“মহাশয়, গান শুনবেন তো আমার সঙ্গে আসুন।” যদি কোনও মূঢ় তাদের সঙ্গে যায়, তো নিমেষে কুট্‌কচালে পথ দিয়ে এমন স্থানে নিয়ে গিয়ে ফেলে, যেখান থেকে ইজ্জত নিয়ে ফিরে আসা দায়। হয়ত সে বাড়ির সিড়ির পংক্তিগুলি সরু, অন্ধকার ও আকা-বাঁকা। তার উপরে সুসজ্জিত বড় বড় আয়না বিশিষ্ট ও নানারূপ চিত্তবিকারী ছবি দিয়ে সাজান প্রকোষ্ঠ। আলবোলায় তাওয়া দিয়ে তামাক সাজা; আতর দানে আতর প্রভৃতি দেখা যায়। নূতন মখমলের সোফার উপর বসিয়া কেহ হয় ত অনন্য ভাবে ধূমপান করিতেছেন। সেই খানেই আবার কত রকমের তাস্ ও ছবি বিক্রয় হয়,—তা অমনি দেখিলে এক রকম; আবার রোদে দেখিলে আর এক রকম। ইত্যাদি নানারূপ বিপদ-সঙ্কুল স্থানে সে বন্দরটি পরিপূর্ণ।

 যেমন করে থাকি, প্রথমেই পোষ্টাপিসে গেলাম। সেখানে ইজিপটিও ষ্ট্যাম্পই প্রচলিত—তার দাম একপেনীর কিছু উপর। অন্যান্য দেশের ও ষ্ট্যাম্প পাওয়া যায়; সে আরও দাম। প্রতি বিভিন্ন দেশের ষ্ট্যাম্প লইয়া