সেই দেশেরই পোষ্ট বাক্সে ফেলিতে হয়। অঙ্গের অন্য দেশের বাক্সে ভুলিয়া দিলেও চিঠি পৌঁছাবে। তবে সেখানে দুনা দাম দিয়া লইতে হইবে। ঠিক এইরূপ চীন দেশের এময় সহরেও দেখিয়াছি। যেখানেই বিভিন্ন জাতির পাঁচ জনের একত্র ক্ষমতা বিস্তার, সেখানেই এইরূপ হইয়া থাকে।
পূর্ব্বেই বলিয়াছি, এ সকল আব্রুর দেশে রাস্তায় প্রায়ই স্ত্রীলোক দেখা যায় না। যে দুই একটি দেখা যায়, তাহাদের মুখের নীচেটি ঘোমটায় আবৃত। আমাদের দেশের ঘোমটায় চোখ ঢাকা থাকে বলিয়া হুচট খাওয়ার ভয়। তাদের মুখের নীচে ঢাকা কিন্তু চোখ খোলা। সে ছবি গেল বারে “আরব রমণীর” ছবিতে দেখাইয়াছি। অঙ্গের অন্য কোনও জায়গাই ফাঁক নাই বলিয়াই ইহারা নাকের উপরই যা কিছু গহনা পরিবার আছে তাই পড়েন। বলা বাহুল্য যে স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য ঘোমটায় ঢাকিয়া জহরতের সৌন্দর্য্যের বিকাশ করা সে চেষ্টা মিথ্যা চেষ্টা।
অতি অল্পদূর যাইয়াই গ্রীক দেশের গীর্জ্জায় ঢুকিলাম। তার সামনে একটি বাগানে একটি ইউরোপীয় রমণী নিজেই বাগান খুঁড়িতেছেন। তাঁহার শরীর যেমন সুস্থ, অঙ্গ প্রত্যঙ্গও তেমনি পরিপাটী। মুখে স্বাধীনতা ও আনন্দের ভাব। গীর্জ্জাটি অন্য গীর্জ্জারই মত উঁচু চূড়া বিশিষ্ট। তার উপর হইতে মধুরস্বরে উপাসনার ঘণ্টা বাজিতেছিল। সামনেই কতকগুলি প্রাচীনা রমণী দাঁড়াইয়া নতশির হইয়া, উপাসনায় রত হইলেন। একটি ভিক্ষুকও কান নাক ছুঁইয়া কুর্ণিস করার মত করিয়া পূজায় যোগ দিল। দূরেও যে যেখানে ছিল ঘণ্টার শব্দ শুনিয়া স্তম্ভিত হইয়া দাঁড়াইয়া চোখ বুজিল। ঘণ্টার রবে এমন কি অনির্ব্বচনীয় ক্ষমতা আছে যে, তাতে মনের কর্ম্মোন্মুখী ভাব ও শরীরের গতিবিধি সব তখনি তখনি একেবারে বন্ধ করিয়া দেয়। প্যারিশে লুভেয়ারের আর্ট্ গোলারীতে একটি ছবি দেখিয়াছিলাম—তাতেও এইরূপ ভাবের ছবি ছিল। চিত্রকর