বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্যৈয়দ্ বন্দর।
৪১

“মলিয়ারেরই” আঁকা। সবল হৃদয় কৃষক ও তাঁহার পত্নী মাঠে একত্রে কাজ করিতেছিলেন। এমন সময়ে দূরে নগরের ধর্ম্ম মন্দির হইতে সন্ধ্যা উপাসনার ঘণ্টা ধ্বনি উঠিল। যাই সেই মধুর বোল তাঁহাদের কানে পৌঁছিয়াছে অমনি যিনি যেমন অবস্থায় ছিলেন, ধ্যানস্থ হইয়া পড়িলেন। সে যে মুদিত নেত্রের ও নত মুখের মধুর ভাব, এমন কোথাও দেখি নাই। কবির তুলিকা রমণীর নত মুখের কপোলে অস্তমান সূর্য্যের একটি সুরঞ্জিত রশ্মি প্রতিফলিত করিয়া আরও স্বর্গের ভাব আনিয়াছেন। এই বিষয়েরই একটি ছোট ছবি আমি সঙ্গে আনিয়াছি।

 মন্দিরের ভিতর ঢুকিয়া দেখি, তাতে অধিকাংশই বৃদ্ধা স্ত্রীলোক। চারিটি মাত্র পুরুষ আছে। তাহারাও সব অতি বৃদ্ধ। সকল দেশেই এইরূপ ঘটে—ধর্ম্মের টানে সরল হৃদয়া স্ত্রীলোকেরাই বেশী আকৃষ্ট হয়েন। আর বৃদ্ধ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দৌর্ব্বল্যের অসহায় ভাব বৃদ্ধি পাওয়াতে সকল বিবেক ও ধর্ম্মভাব আরও ঘনীভূত হয়।

 সে ধর্ম্মমন্দির আমাদেরই ধর্ম্মমন্দিরের মত, তাতে নানারূপ প্রতিমূর্ত্তি রক্ষিত ও পূজিত। যীশু খৃষ্টের নানা অবস্থার মূর্ত্তি আছে। মাতৃকোলে শিশু অবস্থারই মুর্ত্তি সর্ব্বাপেক্ষা সুন্দর দেখায়, আর ক্রুশে বিদ্ধ তাঁহার শিথিল দেহই সর্ব্বাপেক্ষা পূজিত। কেথলিক চার্চ্চে কুমারী মেরীর খৃষ্ট অপেক্ষাও আদর। প্রচারক সন্ন্যাসী পলের প্রস্তুর মূর্ত্তির বৃদ্ধ অঙ্গুষ্ঠ উপাসকদের চুম্বনের ঘর্ষণে একেবারে খইয়া গিয়াছে। চারিদিকে মোমবাতি জ্বলিতেছে—ও নানা রঙের কাপড় দিয়া সাজান। ফুলও আছে—ধূপ ধূনাও জ্বলিতেছে। জর্ডন্ নদীর পবিত্র জল স্পর্শ করিয়া যাত্রীরা উপাসনায় রত হয়। সবই প্রায় আমাদের দেশেরই মত। এও একরূপ নূতন মূর্ত্তি পূজা। ঈশ্বরের কল্পনা মানবের আদি অবস্থায় এইরূপ স্বরূপভাবেই আবির্ভাব হইয়াছে। ক্রমে নিরাকার কল্পনায় প্রবর্ত্তিত হইয়াছে। খৃষ্টিয় সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর গীর্জ্জা দেখিলে তাহা স্পষ্ট বুঝা যায়। রোমান