বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২
বিলাত ভ্রমণ

কেথলিকদের এ সব সবজ্ঞম ইহা হইতেও কম। Protestant Church এর আবার আরও কম। মুসলমান ধর্ম্মে আবার আরও বিরল। এমন কি, তাঁহাদের বৈঠকখানার ঘরে তাঁরা ছবি অবধি থাকিতে পারে না পাছে প্রতিমা পূজায় প্রবৃত্তি আসে। গীর্জ্জায় ঘণ্টা বাজান অবধি নিষিদ্ধ। মানুষে মসজিদের উপর হইতে চীৎকার করিয়া সেই কাজ করে থাকে। অথচ সকল সম্প্রদায়েরই বিধান মতে অপরের প্রণালী ঠিক নহে বলিয়া বিবেচিত।

 এখান হইতে গাইড্ আমাদের একটি মুসলমান মসজিদে লইয়া গেল। জুতার উপর একটি নেকড়ার জুতা পরিয়া তবে তাতে প্রবেশ করিতে হয়। মোল্লার বেদী দেখিলাম। কতকগুলি ছোট ছেলে কোরাণদানে বই রাখিয়া পড়িতেছিল। কোরাণসরীফ ও দেখিলাম, মহম্মদের নিজ হাতের তরবারিও দেখিলাম। মহরমের বিষম লম্বা ধ্বজাও দেখিলাম। একজন মোল্লা ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে আমাদের মহম্মদের জীবন বৃত্তান্ত ও এই মন্দিরটির উৎপত্তি সম্বন্ধে অনেক কথা বলিলেন। তাহারা বড় গরীব। আসিবার সময় আমরা কৃতজ্ঞতা জানাইয়া তাদের হাতে গুটিকতক রৌপ্য মুদ্রা দিলাম—সেই অল্পেই তারা কত সন্তুষ্ট।

 তিনি যে মহাম্মদের জীবন বৃত্তান্ত আমাদের বলিলেন, তাহা আমার কাছে সম্পূর্ণ নূতন কথা ও আমার অতিশয় বিস্ময়জনক বলিয়া মনে হইল। সেই মহাত্মার পুণ্য জীবন কাহিনী সম্বন্ধে দুই একটি কথা নিম্নে বলিতেছি।

 মহম্মদের ইতিবৃত্ত সেই মোল্লার মুখ হইতে আমি নিবিষ্টচিত্তে শুনিয়াছি ও একান্ত কৌতূহলবশত, দু-একখানি পুস্তক হইতেও পরে পড়িয়াছি। তাঁর জন্মিবার কিছুদিন পূর্ব্বেই তাঁর পিতা আবদুল্লা মারা যান। তাঁর মাতা “আমিনা” তাঁকে সুস্থ ও বলিষ্ঠ করিবার জন্য “হমিনা” নাম্নী এক ধাত্রীর কাছে মানুষ করিতে দিলেন। পূর্ব্বেই বলিয়াছি ইনি বুডীন্‌ জাতীয়া স্ত্রীলোক; মরুভূমেই ইহাঁদের বাস। মহম্মদ এই স্থানেই জীবনের প্রথম ৫ বৎসর থাকিয়া এত সুস্থ ও দেহ মনে বলিষ্ঠ হইয়াছিলেন।