বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্যৈয়দ্ বন্দর।
৪৩

কিন্তু ছেলেবেলায় তাঁহার ফিট বা মুচ্ছা হইত। কিছুদিন পরে তাঁর মাতাও মারা যান। তখন তাঁহার মামা “আবুতালিপ্” তাঁহার ভরণ-পোষণের ভার লয়েন। এই সময়ের সকল ছেলেই যেমন সেকালে সে দেশে করিয়া থাকিত, এই বয়সে তিনি মরুভূমির মাঝে পাহাড়ে পাহাড়ে মেষ চরাইয়া বেড়াইতেন। সেই ভীষণ স্থানেই প্রকৃতির ভীষণ শোভা দেখিয়া তাঁর ভাবুক মনে ধর্ম্ম ভাব আসে। সে সময়ে আরব দেশের সমাজ ও ধর্ম্ম অতিশয় উচ্ছৃঙ্খল ছিল। সকলেই মুর্ত্তি পূজা করিত। স্ত্রীলোকের অবস্থা অতিশয় হীন ছিল। মানবহিতব্রতে ব্রতী হইয়া এই সকল কুপ্রথার সংস্কারসাধনে তিনি বদ্ধপরিকর হইলেন। অনন্যমনে এই সকল নির্জ্জন প্রদেশে আহার নিদ্রা ভুলিয়া তখন অহরহ এই চিন্তাই করিতেন। এক সময় তাঁহার মনের অবস্থা এমন বিশৃঙ্খল হইয়াছিল যে, তিনি পাহাড়ের চূড়া হইতে পড়িয়া আত্মহত্যা করিতে যাইতেছিলেন; এমন সময় স্বর্গীয় দূত “গেব্রীয়েল” তাঁহাকে বাঁচাইলেন। এই ঘটনাগুলি অনেকটা যিশুখৃষ্টের জীবনীর মত (Jeasus in the wilderness)। মহাপুরুষদের জীবনে অমনি একদিন দারুণ পরীক্ষার দিন আসে। পূর্ব্বাক্ত এই ঘটনাগুলি হইতেই তাঁহার ভবিষ্যতের যাবতীয় কার্য্যপ্রণালী সব বুঝা যায়।

 তাঁহার যৌবনের আর একটি মহৎ ঘটনা “খাদিজা” নাম্নী এক রমণীর সহিত তাঁর বিবাহ। ইনি একজন ধনী বিধবা রমণী ছিলেন। এবং ইঁহারই কাছে মহম্মদ্ চাকরী করেন। পরে তিনি প্রীত হইয়া মহম্মদকে বিবাহ করেন। তিনি বয়সে ১৫ বৎসরের বড় থাকিলেও সারা জীবন মহম্মদের সঙ্গে অতি সুখে একত্র বাস করিয়াছিলেন। মহম্মদ ইহাকে বড়ই মান্য করিতেন ও তিনিও মহম্মদকে বড়ই ভক্তি করিতেন। তিনটি মেয়ে ও দুটি ছেলে হয়। ছেলে দুটি মারা যায় এবং ছোট মেয়ের বংশধরেরাই মহম্মদের বংশ রক্ষা করে; ইহার ছেলেদের নামই “হাসেন্” ও “হুসেন্”। ইহাদের মৃত্যুর জন্য আক্ষেপ করিয়াই মহরম্ উৎসব হয়।