খাদিজার মৃত্যুর পর মহম্মদ আরও দশবার বিবাহ করিয়াছিলেন। কাহারও সন্তান হয় নাই। তবে তাঁর অতি বৃদ্ধ বয়সে “মেরি” নামক এক খৃষ্টান রমণীর গর্ভে একটি ছেলে হইয়াছিল। মহম্মদ সে ছেলেটিকে বড়ই ভাল বাসিতেন। কিন্তু সেও বাঁচে নাই। একটিও পুত্র সন্তান না থাকায় কে তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার কার্য্যের ভার লইবে এই চিন্তায় মহম্মদ বড়ই কাতর থাকিতেন।
যখন প্রচলিত ধর্ম্মের নিন্দাবাদ করাতে দেশের লোক তাঁহার উপর খড়্গ হস্ত হইল, তখন তাঁহাকে মক্কা ছাড়িয়া মদীনায় পলাইতে হইল। একেই “হিজরী” বলে। ক্রমাগত যুদ্ধ বিগ্রহেই তাঁহার সময় কাটিত, তারই কিঞ্চিৎ অবসরকালে তিনি “কোরাণ” বলিতেন। ৬৪ বৎসর বয়সে ১৫ দিনের জ্বরে তাঁহার মৃত্যু হয়। তাঁহার প্রিয়তমা স্ত্রী “আয়েষার” ঘরেই তিনি দেহত্যাগ করেন। পরে “কোরাণ সরিফ্” লেখা ইহারই ঘরে পাওয়া যায়।
মহম্মদের জীবিত অবস্থাতেই মুসলমানধর্ম্ম বহুদূর অবধি বিস্তৃত হইয়াছিল। তাঁহার ধর্ম্মকে ‘ইসলাম্’ ধর্ম্ম বলা যায়। এই ইসলাম শব্দের অর্থ “ঈশ্বরের ইচ্ছায় সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা।” তাঁহার ধর্ম্মের মূলমন্ত্র এই যে—“ঈশ্বর এক; আর মহম্মদ তাঁহার প্রেরিত (তত্ত্ববক্তা)।” এ ধর্ম্মের নিয়মানুসারে জাতিভেদ নাই। সকল মানুষই সমান, পরে মহম্মদের মৃত্যুর পর অল্পকাল মধ্যেই এই ধর্ম্ম চারিদিকে প্রচার হইয়া পড়িল। এখন পৃথিবীর ভূভাগের চার ভাগের এক ভাগ লোক এই ধর্ম্মাবলম্বী।
এই মসজিদ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া সেখানকার হাঁসপাতাল দেখিতে গেলাম। ছোট বাড়ী কিন্তু ফুলবাগানে ভরা। একজন আরমানী ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত। তিনি আমাদের কাফী পান করাইলেন ও পরে আপনিই সঙ্গে করিয়া সেখানকার সকল স্থান দেখাইলেন।