বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্যৈয়েদ্ বন্দর
৪৫

সেখানে অল্পসংখ্যক মাত্র রোগী বিনা বেতনে থাকিতে পায়। অপর সকলকেই টাকা দিয়া থাকিতে হয়। প্রথম শ্রেণীতে ১০ ডলার প্রতিদিন দেয়। স্নান করিবার, কাপড় কাচিবার, রাঁধিবার, ও রোগীদের রাখিবার সুন্দর ব্যবস্থা। স্ত্রীলোকেরা যেখানে থাকেন, সে স্থানটি দুই ভাগে বিভক্ত—এক ভাগে গৃহস্থ মেয়েরা থাকেন, ও অপরটীতে সাধারণ কুশীলা স্ত্রীলোকদের স্থান। তাদেরও অনাবৃত মুখের ভাবে স্ত্রীলোকের স্বভাবসিদ্ধ সঙ্কোচ মর্য্যাদাও সারল্য আছে। আমাদের হাসপাতালে এ দেশে এমন সুন্দর ব্যবস্থা এ বিষয়ে নাই।

 এখান হইতে তিন মাইল দূরে “অরব পল্লী” দেখিতে গেলাম। সে সহরের বাহিরে স্থান তত পরিষ্কার নহে। ছোট ছোট কুঁড়ে ও অপ্রশস্ত রাস্তা ময়লায় ভরা। গরীব স্ত্রীলোকেরাও ময়লা পোষাক পরা ছেলেপিলে চতুর্দ্দিকে দেখা গেল। স্ত্রীলোকদের প্রায় সবই অবগুণ্ঠিতা।

 শেষে পিয়ারে “লেসেপ্স” এর (Ferdinand Lesseps) প্রতিমূর্ত্তি দেখিতে গেলাম। সেই স্থানটিই সর্ব্বাপেক্ষা মনোরম। সহরের জমী হইতে বড় বড় পাথরে গাঁথা প্রাচীরটি সমুদ্রের ভিতর ১ মাইল অবধি গিয়াছে। সেই স্থানে সহরের যত লোক হাওয়া খাইতে যান। সমুদ্রের ভীষণ তরঙ্গ যাহাতে বন্দরে ঢুকিতে না পারে, সেই জন্য এই প্রাচীর গাঁথা। ভীষণ তরঙ্গ আসিয়া অহরহ তাহাতে আঘাত করিতেছে। আর সে জলকল্লোল কি ভীমনাদ। ঢেউ চলিয়া গেলে, শুভ্র ফেনাগুলি যেন সাদা ফুলের মত বেলাভূমিতে পড়িয়া থাকে। আর শত শত জলজ উদ্ভিদ ও সজীব শেওলা সেই স্রোতে অনবরত পাথরের উপর আহত হইতেছে। “জেলি মাছই” বা কত—তারা নানা রঙ্গের রঞ্জিত বিচিত্র ছাতা খুলিয়া জলের নীচে সাঁতার দিতেছে। ঢেউগুলির তুমুল আলোড়ন যেন জলদস্যুদের আক্রমণের মত মনে হয়। যেন প্রবলবেগে পাথরের প্রাচীরটি ভাঙ্গিয়া