দিয়া বড় বড় ঢেউগুলি দেশটি জলপ্লাবনে নষ্ট করিতে চায়। দ্বারিকা ধ্বংসের কালে এইরূপ দৃশ্যই বোধ হয় বর্ণিত আছে।
এই পাথরের প্রাচীরের সমুদ্র প্রান্তে “লেসেপ্স্” এর প্রতিমূর্ত্তি এক উঁচু থামের উপর অবস্থিত। এক হাতে চাবী ও অপর হাতে সুয়েজ খালের ম্যাপ হাতে করিয়া কর্ম্মবীর সমুদ্রের দিকে বিস্ফারিত নেত্রে চাহিয়া আছেন। খাল কাটিয়া সাগর বাঁধিয়া যেন তিনি সেখানে দাঁড়াইয়া ভীষণ সমুদ্রের উপর প্রভুত্ব করিতেছেন। ইনি একজন ফরাসী দেশীয় এন্জিনিয়র্। কত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করিয়া মরুভূমির উপর দিয়া ছোট ছোট হ্রদ গুলিকে একত্র করিয়া এই অসম্ভব কাজ সম্ভব করিয়াছেন। যে স্থানে যাইতে পূর্ব্বে তিন মাস লাগিত, এখন এক মাস লাগে। এখন ব্যবসা বাণিজ্যের কত সুবিধা হইয়াছে ও ইউরোপের সহিত কত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ স্থাপিত হইয়াছে। তার ফল, এক হিসাবে ভীষণ হইয়াছে। অনেক আসিয়াবাসী এই দারুণ জীবনসংগ্রামে মরিতেছে। তবে তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক যাহারা বাঁচিয়া থাকিতে পারিবে, তাহারা নূতন অবস্থার আলো পাইয়া ও তদ্দ্বারা আরও বলীয়ান হইয়া, সুদূর ভবিষ্যতে হয়ত দুই শক্তির সংমিশ্রণে অনেক খেলা খেলিতে পারিবে—আশা করা যায়।
ইহারই নিকট জমীর উপর Maconigraph মার্কনীর তারবিহীন টেলিগ্রাফের স্তম্ভ। প্রতি বন্দরেই এরূপ ব্যবস্থা আছে। শীঘ্র খবরাখবরে ইহা বড়ই সুবিধাজনক। খবর পাঠাইবার কালে আকাশে যে বৈদ্যুতিক ঢেউগুলি হয়, সেগুলি চারিদিকের ঘোষণাস্থান দিয়া ছড়াইয়া পড়ে বলিয়া খামের মাতার উচু স্থানই যন্ত্ররক্ষার পক্ষে সুবিধাজনক।