বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভূমধ্যসাগর ও মিশরদেশ।

 বেলা চারিটার সময় আমরা সৈয়দ বন্দর ছাড়িলাম। এইবার আসিয়ার সহিত সকল সম্পর্ক ঘুচিল।

 ঠিক জাহাজখানি ছাড়িবার কালে একখানি মুসলমান তীর্থযাত্রীর জাহাজ বন্দরে আসিল। তাতে ঠিক ভেড়া বোঝায়ের মত সব ময়লা কাপড় পড়া নানাদেশের মুসলমান তীর্থযাত্রী মক্কা হইতে ফিরিয়া আসিতেছিল। আমাদের সীতাকুণ্ডের মত নিকটেই “মেজেস্‌এব কূপ” নামক একটি তীর্থ আছে, সেখানে অনেক যাত্রী যায়। সে দৃশ্য দেখে আমার আমাদের দেশের তীর্থ-যাত্রীদের কথা মনে হলো। কি অসহায় হইয়া এই সকল লোক পরের হাতে এত লাঞ্ছনা সহিতেছে। এসিয়াবাসীর এবংবিধ ও অন্যান্য নানাপ্রকার অব্যবস্থার কথা ভাবিতে ভাবিতে এবং আসিয়া ভূমিখণ্ডের দিকে শেষ দেখা দেখিতে দেখিতে আসিয়া ছাড়িয়া চলিলাম। ভূমধ্যস্থ সাগরের ভিতর দিয়া জাহাজ এইবার উন্নতিশীল ইউরোপের পথে চলিতে লাগিল।

 বন্দর হইতে বাহির হইবার কালে সকল জাহাজকে সে সমুদ্রভিতরকার পাথরের প্রাচীর ও লেসেপ্‌সের মূর্ত্তি ঘুরিয়া যাইতে হয়। সমুদ্র হইতে জমীর দৃশ্য অতি সুন্দর দেখায়। সহরের উঁচু উঁচু বাড়ীগুলি সব সারিদিয়া তীরে দাঁড়াইয়া আছে। তার মাথায় ব্যবসাদারদের কতরকমের সাইনবোর্ড আঁটা। কত হোটেল, কত দোকান, কত নাচ ঘর। সর্ব্বাপেক্ষা তারহীন টেলিগ্রাফের থামটি উঁচু। তার উপরে আকাশের বৈদ্যুতিক ঢেউ লইবার ও ঢেউ দিবার কত যন্ত্র আছে। সমুদ্র হইতে দেখিতে লেসেপ্সের ছবিটির আরও গম্ভীর মুর্ত্তি। বাস্তবিকই যেন সমুদ্রবক্ষে দাঁড়াইয়া বীরবর সাগরের উপর প্রভুত্ব করিতেছেন।