ভূমিকা।
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত ইন্দুমাধব মল্লিক মহাশয়ের নাম দেশ-বিশ্রুত; নানাগুণে তিনি দেশবাসীর শ্রদ্ধা আকর্ষণ করিয়াছেন। সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁহার গুণপনার পরিচয় ইতিপূর্ব্বে বঙ্গসাহিত্যপাঠকমাত্রেই তাঁহার প্রণীত “চীনভ্রমণ” কাহিনী এবং অন্যান্য সুললিত রচনায় প্রাপ্ত হইয়াছেন—সুতরাং নূতন করিয়া ইন্দুবাবুর পরিচয় অনাবশ্যক।
সুন্দর জিনিস চিরকালই সুন্দর; যে সেই সুন্দর জিনিসকে হাতে করিয়া তুলিয়া অন্যকে উপহার দিতে পারে তাহারই পরম সৌভাগ্য। এ ক্ষেত্রে আমিও ইন্দুবাবুর ভাবসৌন্দর্য্যের বহনভার এবং সাধারণসমক্ষে তাহাকে উদ্ঘাটিত করিবার অধিকার প্রাপ্ত হইয়া আপনাকে সৌভাগ্যবান বিবেচনা করিতেছি। আলোচ্য গ্রন্থে যাহা সুন্দর বলিয়া আমার নিকট প্রতিভাত হইয়াছে পাঠকের সম্মুখে আমি তাহাই সংস্থাপন করিব—পাঠকগণ বিচার করিয়া দেখিবেন তাহা যথার্থ সুন্দর কি না।
ইন্দুবাবুর রচনায় একটা আবরণহীন স্বচ্ছ সরলভাব আছে যাহা প্রথমেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কোথাও ভাষার অনাবশ্যক আড়ম্বর নাই, ঘুরাইয়া ফিরাইয়া বলিবার চেষ্টা নাই—কষ্টকল্পনামাত্রও নাই, ইন্দুবাবু যাহা বলেন, তাহা সোজা গিয়া পাঠকের প্রাণে লাগে। দুঃখের অকপট একবিন্দু অশ্রুপাতে যে ভাব ব্যক্ত হয় কৃত্রিম সহস্র চীৎকার ক্রন্দনধ্বনিতেও তাহা হয় না। ইন্দুবাবুর রচনা এই স্বাভাবিক সরল সৌন্দর্য্যে সমুজ্জ্বল।
ছোটখাটো বিষয়গুলিকে ফুটাইয়া তুলিতে, ভাবসৌন্দর্য্যে মণ্ডিত