বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৮
বিলাত ভ্রমণ

 ক্রমে যত জাহাজ দূর হইতে দূরে যাইতে লাগিল, জমীর রেখাও তত ক্ষীণ হইতে লাগিল। ক্রমে সন্ধ্যা আকাশে মিশরের অস্পষ্ট ক্ষীণ রেখা যেন সুদূর অতীতের স্বপ্নরাজ্যের মত মনে হইতে লাগিল

 সে রাজ্য বাস্তবিকই স্বপ্নরাজ্য। পৃথিবীর যত রাজ্যের ইতিহাস জানা আছে—মিশরই সর্ব্বাপেক্ষা পুরাতন। এমন কি খৃষ্টপূর্ব্ব দশ সহস্র বৎসর পূর্ব্বেরও সংবাদ কিছু কিছু পাওয়া গিয়াছে। খৃষ্টের পরে আজ এখনও দু হাজার বৎসর হয় নাই। সে এত দিনের পুরাতন রাজ্য। সুদূর অতীতের আবরণ উন্মোচন করিয়া মিশরের যে সকল পুরাতত্ত্ব আবিষ্কৃত হইয়াছে—সেও অতি বিস্ময়কর কথা। সেই কারণেই স্বপ্নরাজ্যের সহিত তাহার তুলনা দেওয়া কিছু অন্যায় নহে।

 অথচ সে সকল আবিষ্কৃত তত্ত্বের যথার্থ ভাল ভাল প্রমাণও আছে সেগুলি নিতান্ত অলিক কথা নয়। মিশর দেশ আরবেরই মত একটি মরুভূমিময় দেশ। কেবল তার মধ্য দিয়া নীলনদী প্রবাহিত হইয়া তাহার সামান্য কতক অংশকে বাসোপযোগী করিয়াছে। বর্ষাকালে সেই নীল নদীতে বিপুল জল নিকাস হওয়ায় বন্যা হয় ও সেই জল প্লাবনেই চারিদিকের শস্যক্ষেত্রে জল পায়। চাষ করিবার উপযোগী জমী অত বড় দেশে অতি অল্প। তাই সেকালে জমীর অত আদর ছিল। এক সামান্য অংশও তাই এত হিসাবের উপর রাখা হইত বলিয়া এই দেশেই জ্যামিতি প্রথম আবিষ্কৃত হয়। সে শাস্ত্র আর কিছুই নয়—সূক্ষ্মভাবে জমী মাপিবারই শাস্ত্র।

 খৃষ্ট পূর্ব্ব দুই সহস্র বৎসর পূর্ব্বে নীলনদীর ধারে অনেক সমৃদ্ধিশালী ও সুসভ্য সহরের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সঠিক খবর পাওয়া যায়। “কেরো” তার মধ্যে একটি প্রধান স্থান। এই সময়ে তার নিকটবর্ত্তী স্থানে অনেকগুলি পিরামিদ তৈয়ারী হয়। সেগুলি এখনও তেমনি ভাবে বিদ্যমান। সেগুলি সব ইজিপ্টের রাজাদের গোরস্থান ছিল। সব