থান থান পাথরে মজবুত করিয়া গাঁথা, এত শতাব্দী পরেও পূর্ব্ববৎই আছে। তাতে বিস্তর রাজাদের গোর আছে। এক একটি তৈয়ারী করিতে হিসাবে ১ লক্ষ লোককে ২০ বৎসর খাটিতে হইয়াছে। এই সকল পিরামিদের ধারেই “ফিনিক্স”এর প্রকাণ্ড প্রস্তর মূর্ত্তি মরুভূমির বালুতে কতক প্রোথিত আছে। সে আবার পিরামিদ হইতেও পুরাতন। এটি একখানি প্রকাণ্ড কাল পাথরে খোদা মনুষ্য ও জন্তু মুর্ত্তি। পুরাতন মিশর দেশের প্রধান দেবতা সূর্য্যদেবেরই প্রতিমূর্ত্তি ছিল।
এত পরিশ্রম ও খরচ করিয়া পিরামিদ নির্ম্মাণের কি আবশ্যক ছিল এ কথার উত্তর দিতে হইলে মিশরের পুরাতন ধর্ম্মবিশ্বাস সম্বন্ধে কিছু বলা উচিত। সকল পুরাতন জাতিরই মত তাঁহারাও পৌত্তলিক ছিলেন ও বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস করিতেন। আর তাঁহাদের বিশ্বাস ছিল যে মৃত্যুর পর আত্মা দেহের নিকটেই ঘুরিয়া বেড়ায় ও আহার পানীয় ও ভোগবিলাসের আশায় সর্ব্বদা অস্থির হইয়া ফিরে; এবং সুদূর ভবিষ্যতে আবার সেই আত্মা সেই দেহেই ফিরিয়া আসিবে। এই আত্মার ফিরিয়া আসার আশাতেই মৃতের দেহরক্ষার উপর লোকের এত ঝোঁক পড়িল। সেই আকাঙ্ক্ষাপূর্ণ আত্মার ভোগ বাসনা নিবৃত্তি করিবার জন্য সে কবরের ভিতর আহার্য্য বসন ভূষণ প্রভৃতি সকল দ্রব্যই দেওয়া হয়। আর সকল রকম সামাজিক ঘটনাবলিরও সেই পাথরের গোরের ভিতর দিকে ছবি চিত্রিত আছে। তার ভিতর নানারূপ চিত্র বিচিত্র করা মাটির ও ধাতুর তৈজসপত্রও থাকে। এই সকল ছবি হইতেই প্রাচীন মিশরের পুরাতত্ত্ব উদ্ঘাটিত হইয়াছে। এ আবিষ্কারগুলি কিছুই অন্যায্য বা অলীক কল্পনা নহে।
এই সকল হইতেই জানা যায় তাঁদের রীতি নীতি আচার ব্যবহার সভ্য জাতিরই মত ছিল। তাঁদের রাজা “ফেরোয়া” তাঁদের পুরোহিত ও দেবতা বলিয়া পূজিত হইতেন। আমাদের দেশের ব্রাহ্মণদের মত তাঁদের দেশেও এক শ্রেণীর পুরোহিত ছিল, তাঁদের পদ সাধারণ লোকের