বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫০
বিলাত ভ্রমণ।

অপেক্ষা অনেক উচ্চ। তাঁদের দেশে, চীন দেশ ও পূর্ব্বেকার আমাদের দেশেরই মত, বিদ্বান লোকের বড়ই আদর ছিল। কিন্তু তাঁরা পুরোহিত হইতে এক স্বতন্ত্র জাতি ছিলেন। সরকলমে পেপিরস্ গাছের বল্কলে তাঁহারা বহুবিধ পুস্তক লিখিতেন। তখনকার জ্যোতিষ চিকিৎসাদি নানা বিদ্যায় তাঁহারা সুপণ্ডিত ছিলেন। তখনও সেথায় ধাতু দ্রব্যের প্রচুর ব্যবহার ছিল ও তাঁতি ছুতর কামার প্রভৃতি সকল শ্রেণীর কারীগরই বিদ্যমান ছিল।

 এই গেল পুরাণ মিশরের ইতিবৃত্ত। সেই স্থানের নিকট “চালডিয়া” দেশের রাজধানী “ব্যাবিলন্” দেশও অতি পুরাতন। পুরাতন মিশরে ছবি শিখিয়াই বর্ণমালার প্রথম উত্থান হয়, মানুষ বুঝাইতে একটি মানুষই লিখিতে হইত। ক্রমে সে দিন গিয়া অনেক পরিবর্ত্তনের পর আধুনিক হরফে দাঁড়াইয়াছে। বেবিলনে এই লেখা বিভিন্নদেশের বর্ণমালার জন্মদাত্রী। সোজা সোজা তীরের অক্ষরে খোদা হইত। এইটি আবার মিডিয়া দেশ দিয়া ভারতবর্ষে আসিয়া অশোক লিপির অক্ষর হয়। ইহা হইতে আমাদেরও সংস্কৃত ও বাঙ্গালা অক্ষরের উৎপত্তি।

 নিউরিয়া মিশরেরই দক্ষিণে। সে দেশের সহিত, প্রতিবাসীর সহিত যেমন হয়ে থাকে, মিশরের চিরবিবাদ ছিল। একটি রাজার গোরের ভিতর ছবি আঁকা আছে; তাতে একটি ছবি এই,—তাঁর কাছে যুদ্ধে হার মানিয়া নিউবিয়ার রাজা নানারূপ উপঢৌকন লইয়া তাঁহাকে ভেট দিতে আসিতেছে। ব্রিটিশ মিউজিয়মের তিনটি দালান এই সকল মিশরের পুরাতত্ত্বের দর্শনীতে পূর্ণ। সে এরূপ সুন্দররূপে সাজান ও বিস্ময়কর যে সে ঘরে ঢুকিয়া জিনিষগুলি দেখিলেই মানব জাতির আদি উৎপত্তির বিবরণ যেন স্বচক্ষে সুস্পষ্ট দেখা যায়। মানব আদিম বর্ব্বর অবস্থা হইতে ক্রমে সভ্য হইয়া আজকালকার সুসভ্য জাতিতে পরিণত হইয়াছে। নিচু হইতে উপর অবধি সবাই একটি অনন্ত শ্রেণীর এক একটি পদ বিশেষ। সে সকল শ্রেণীর সকলকেই অন্তরের সহিত নমস্কার করি।