বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ
৫১

 মিশর পূর্ব্বে বহু পরাক্রান্ত রাজ্য ছিল। নিকটবর্ত্তী অন্য সকল স্থানে ক্ষমতা বিস্তার করিয়া পরে ইহুদীজাতিকেও জয় করিয়াছিল। তাঁহারা মিশরে অনেক দিন বন্দী ছিলেন। পরে মোসেস্ তাঁহাদিগকে সেস্থান হইতে উদ্ধার করিয়া আনেন। সেই সময়ে মিশরের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ সূচনা করিয়া মিশরে কত দৈব উৎপাত হয়। আমাদের দেশেরই মত Plague বা মহামারী ঘটিয়াছিল। সবাইকার ঘরে সর্ব্বের বড় ছেলেদের সব মৃত্যু হইতে লাগিল; জলপ্লাবনে দেশ রাখা দায় হইল; পঙ্গপাল আসিয়া ক্ষেত্রের পাকাশস্য ছারখার করিয়া দিল। এই উৎপাতের সুযোগেই ইহুদীরা ঈশ্বর অনুগ্রহে প্রকাশিত লোহিত সমুদ্রের জলের মধ্যে শুকনা পথ দিয়া সর্ব্বশক্তিমান ঈশ্বরেরই সাহায্যে পলাইয়া আসিতে পারিয়াছিলেন।

 এইস্থান হইতেই প্রথমে গ্রীসে সভ্যতা যায়, কিন্তু পরে গ্রীকরা আসিয়াই আবার মিশর জয় করিয়া তথায় নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করেন। মিশরের রাজা টলেমী ও রাণী ক্লিওপ্যাট্রা এই বংশেরই লোক। রাণী ক্লিওপ্যাট্রার ইতিহাস সর্ব্বজনবিদিত, তবুও অতি বিস্ময়কর কথা বলিয়া আমি পরে তাহা সবিস্তারে বলিতেছি।

 গ্রীক্‌দের পরে রোমানরা মিশর জয় করেন। পরে রোমরাজ্যের ধ্বংসের সময় মিশর আবার একরূপ স্বাধীন হইয়াছিল। মুসলমান ধর্ম্ম প্রচার হইবার সময় মুরযুদ্ধে মুসলমানেরা মিশর জয় করেন, ও অন্যান্য মন্দির ও দেবমূর্ত্তি ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে মিশর দেশের অনেক দিনের বিখ্যাত লাইব্রেরীটিও পুড়াইয়া দেন। সেই হতেই ইউক্লিডের কয় বই জ্যামিতি ধ্বংস হইয়া গেল। এখন মিশরদেশের শাসনকর্ত্তা খেদিবের তত্ত্বাবধানে সুলতানের অধীনে ও ইংরেজদেরই ক্ষমতাধীনে মিশর শাসিত! ইউরোপের এত নিকটে থাকায় ও কতকটা গরম ও বেশ স্বাস্থ্যকর স্থান বলিয়া ইউরোপীয় সকল জাতীয় লোকেরই এইটি বেড়াইবার স্থান। ভারতে