বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫২
বিলাত ভ্রমণ।

যাবার আসবার পথ সুয়েজ কেনেলের ধারে বলিয়াই ইংরাজ ইহা দখল করিয়া বসিয়াছেন। ভারতবর্ষ জয় করিবার অভিলাষ করিবার সময় নেপোলিয়নেরও এই ইজিপ্ট দখল করিবার ইচ্ছা ছিল। নাইলের যুদ্ধে নেলসনের হাতে সে আশা ভাঙ্গে।

 এখন সকল ইংরাজরাজত্বের মধ্যে এইখানেই সর্ব্বাপেক্ষা ভাল তূলা জন্মে বলিয়া ম্যানচেষ্টারএর কতকটা ভরসা। নয় ত তাদের আমেরিকার হাতে সম্পূর্ণরূপেই যেতে হতো। ঋণগ্রস্ত খেদিবএর কাছ হইতে যে সময় ভূতপূর্ব্ব রাজসচিব ডিসরেলি বিলাতের লোকদের না জানাইয়া ও পার্লামেণ্টের পরামর্শ না লইয়াই সুয়েজ কেনেলের সেয়ার কিনিয়া লইয়াছিলেন, সেই সময় হইতেই ইংরেজের ক্ষমতা এখানে এত বেশী হইয়াছে। পরে আরবী পাশার বিদ্রোহে জেনারেল গর্ডনের প্রাণনাশ; লর্ড কিচেনারের সে বিদ্রোহ দমন, ও সুশাসনে মাধির সৈন্য বিধ্বস্ত করার পর হইতে দেশটি এখন কতক সুশৃঙ্খল হইয়াছে। লর্ড ক্রোমারের সুশাসনে সে দেশে এখন এত সুফল ফলিয়াছে বলিয়া সম্প্রতি তিনি রাজভাণ্ডার হইতে প্রভূত পরিমাণে পারিতোষিক পাইয়াছেন। কিন্তু মিশর দেশের লোক অনেকেই অসন্তুষ্ট। “প্যান ইসলামিক দল” বা যে দল মুসলমান রাজ্যের হিতাকাঙ্ক্ষায় দেশের জন্য গঠিত হইয়াছে সে দল আজকাল বড়ই বাড়িতেছে।

 আমি মিশরের সমস্ত ইতিহাস মোটামুটি সংক্ষেপে বলিয়াছি। যে দেশ পুরাকালে ও অধুনা এত প্রসিদ্ধ সে দেশের পার্শ্ব দিয়া যাইবার কালে তার কথা না বলিলে একান্তই অসম্পূর্ণ হয়। বিশেষ যখন তাদের পুরাকালের সমাজ ও ধর্ম্ম অনেকটা আমাদেরই সমাজ ও ধর্ম্মের মত ছিল। আর যখন ইংরাজের ভারতে আসিবার এক প্রান্তের দ্বারের মত সে পথটি এত আবশ্যকীয়।

 কিন্তু মিশর সম্বন্ধে একটি বলিবার কথা বলি নাই। সে মনোহর কথা