বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূমধ্যস্থ সাগর ও মিশর দেশ।
৫৩

শেষে সবিস্তারে বলিব বলিয়া রাখিয়া দিয়াছিলাম, সেটি মিশরেরই পূরাকালের রাণী ক্লিওপ্যাট্রার কথা! এই রমণীর ইতিবৃত্ত এত প্রসিদ্ধ যে কি ইতিহাস লেখক কি কবি কি চিত্রকর কিম্বা ভাস্কর সকলেই তাঁহার মধুর মূর্ত্তি ও নারীজীবনের অলৌকিক ইতিহাস নানাপ্রকারে লিপিবদ্ধ করিয়াছে। মার্সেলের “লুই ডি প্যালে” আর্ট গ্যালারীর সামনেই তাঁহারই সর্পবিষে জর্জ্জরিত শিথিল দেহের কাল প্রস্তর নির্মিত প্রতিকৃতি স্থাপিত আছে। কলিকাতার আসিয়াটিক্ সোসাইটির ঘরেও সে চিত্র রক্ষিত আছে। আর ইউরোপে এমন গ্যালারী নাই যেখানে তাঁহার মূর্ত্তি বা সে চিত্র রক্ষিত হয় নাই।

 ইনি মিশরের রাজকন্যা। খৃষ্টপূর্ব্ব শতাব্দীর অবসানের দিনেই ইহার আবির্ভাব হয়। অতি শিশু অবস্থাতেই ইঁহার পিতৃবিয়োগ ঘটে। নিজেরই অপর দুইটি ছোট ভাইদের সঙ্গে একত্রে রাণী হইবেন এইরূপ ঠিক ছিল। তখন মিশরে এক অদ্ভুত প্রথা প্রচলিত ছিল। রাজবংশে ভাই বুনে বিবাহ হইত। বর্ম্মা দেশেও এইরূপ প্রথা ছিল শুনিয়াছি। নিজ ভ্রাতার সহিতই বিবাহিতা হইয়া দু’জনে সিংহাসনে বসিলেন। সেক্ষপিয়ার বলিয়াছেন,—“Beauty provoketh thieves sooner than gold—অর্থাং সুরূপে যত শত্রু আনে আর সোনাতেও তত আনে না। তাই মিশর রাজ্যে তাঁহার রাজ্যারোহণে নানা গোলমাল উঠায় তিনি রাজ্য ছাড়িয়া পালান। তখন রোমরাজ্যের প্রধান সেনাপতি জুলিয়স্ সীজর পম্পেকে পরাস্ত করিয়া তাঁহার পশ্চাৎ ধাবন করিয়া কার্থেজে আসিয়াছিলেন। বুদ্ধিমতী রমণী এই সুযোগ দেখিয়া তাঁহারই শরণাপন্ন হইলেন। এ রমণীকে যিনি একবার দেখিয়াছেন তিনি আর ভুলেন নাই। এত রূপের মাধুর্য্য ও এত মধুর আলাপের ক্ষমতা ছিল যে যার সহিত একবার সাক্ষাৎ হইত সেই মুগ্ধ হইয়া পড়িত। বীর সীজারও সেইরূপ হইলেন। মিশর রাজ্য জয় করিয়া ক্লিওপ্যাট্রার হাতেই দিলেন ও তাঁর