বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৪
বিলাত ভ্রমণ।

স্বামীকে হত্যা করিয়া ও অপর ভাইটিকে বিষপ্রয়োগে মারিয়া ফেলিয়া নিষ্কণ্টক হইয়া তাঁহারা দু’জনে একত্রে রোমনগরে ফিরিয়া গেলেন। সেখানে তাঁহার একটি পুত্র সন্তান হয়। পরে যখন রোম রাজ্যের বিবাদ বিসম্বাদে সীজার হত হন, তখন ক্লিওপ্যাট্রাকে মিশরে ফিরিয়া আসিতে হইল। তারপর অনেক গোলমালের পর সীজারের হন্তা ব্রূটাসকে সাহায্য করিয়াছিলেন এইরূপ দোষারোপ করিয়া এণ্টনী ক্লিওপ্যাট্রাকে সাজা দিবেন বলিয়া বিচারালয়ে ডাকিয়া পাঠান। চতুরা রাণী তৎক্ষণাৎ সম্মত হইলেন। রাণী যাবেন বলিয়া নানারঙ্গে সুরঞ্জিত সুন্দর নৌকাখানি জলে ভাসিল। কাঠের দাঁড়ের পরিবর্ত্তে তার রূপার দাঁড় চলিতে লাগিল। পুরুষ দাঁড়ি দাঁড় টানিবার পরিবর্ত্তে সুরূপা যুবতী রমণীগণ দাঁড় টানিতে লাগিলেন। মধুর সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে তালে তালে নৌকা চলিতে লাগিল। সে জাহাজের পাল মোটা ক্যাম্বিসের নহে লাল পাতলা রেশম দিয়া নির্ম্মিত। মৃদুমন্দ হাওয়ার নানারূপ সুগন্ধ দ্রব্যের সৌরভ সুদূর অবধি চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িতে লাগিল। তারই মাঝে ক্লিওপ্যাট্রা সুসজ্জিতা হইয়া এণ্টনীর কাছে বিচারের জন্য চলিলেন

 সুদূর হইতে আহুত সুগন্ধ অনুভব করিয়াই এণ্টনী জানিতে পারিয়াছিলেন যে রাণী ক্লিওপ্যাট্রা আসিতেছেন। ক্রমে সঙ্গীতের রবও শুনা গেল ও আরও নিকটে আসিলে সাদা রূপার দাঁড়গুলিও সূর্যালোকে সুন্দর প্রতিভাত হইতে লাগিল। পরে যখন চারচোখে এক হয়— তখনকার কথা আর বলিবার কি আছে। চিরকাল ভীষণ যুদ্ধবিগ্রহ প্রিয় ও একান্ত উচ্চাভিলাষী এণ্টনিও এখন হইতে একটি রমণীর ক্রীতদাস হইলেন। একান্ত মুগ্ধ হইয়া এণ্টনী ক্লিওপ্যাট্রার সহিত নিজ রাজ্য ছাড়িয়া মিশরে গিয়া বসবাস করিতে লাগিলেন। ইত্যবসরে তাঁহার প্রতিদ্বন্দ্বী অকটেভিয়স্ তাঁহাকে এত দুর্ব্বল দেখিয়া তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিলেন। এণ্টনী ও ক্লিওপ্যাট্রা দু’জনের পক্ষেই ছেড়ে