থাকা এত অসহ্য হইল যে, সে যুদ্ধে ক্লিওপ্যাট্রাও এণ্টনীর সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধে গেলেন। যুদ্ধ সমাপ্ত হইবার পূর্ব্বেই ক্লিওপ্যাট্রার জাহাজ ভয়ে ত্রস্থ হইয়া পলাইতে লাগিল, এণ্টনীও অনুধাবন করিলেন। যুদ্ধে হার হইলে এণ্টনী নিজে লজ্জায় আত্মহত্যা করিলেন। ক্লিওপ্যাট্রাকে এখন অসহায়া দেখিয়া অকটেভিয়স তাঁহাকে রোমে ডাকিয়া পাঠাইলেন। কিন্তু রোমানদের হাতে অবমাননার ভয়ে ভীত হইয়া—ক্লিওপ্যাট্রাও আত্মহত্যা করিতে বদ্ধপরিকর হইলেন। সে দেশে একরূপ অতিশয় বিষধর সর্প আছে তাহার বিষে অতি শীঘ্র মৃত্যু হয় অথচ কোনও কষ্ট নাই। এইরূপ সর্পের দ্বারা নিজ হস্তে বুকে দংশিত হইয়া রাণী ক্লিওপ্যাট্রা এ মর্ত্তাভূমি ছাড়িলেন।
আশ্চর্য্য যে—সে সব বীরত্বের দিনে আত্মহত্যার কথা সচরাচরই শুনা যাইত। যে কেহ অপমানের ভয় করিতেন তিনিই আত্মহত্যা করিতেন। সীজারের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রূটস ও কেসিয়াস যুদ্ধে হারিয়া এইরূপ করেন। এণ্টনীও তাই করিলেন। রাণী ক্লিওপ্যাট্রাও তাই করিলেন। আর কষ্টহীন উপায়ে সহজে আত্মহত্যা করিবার উপায় জানা থাকিলে কত লোকই যে এইরূপ করিতে আজও প্রস্তুত আছে তার ইয়ত্তা নাই। এই কারণেই আজকালকার দিনেও আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে শতকরা বার আনা লোক পুলিশের সম্প্রতিকার তালিকা অনুসারে আফিম খাইয়াই আত্মহত্যা করে।
এইরূপ জীবনের ঘটনাবলীর কথা শুনিয়া সকলেরই ইচ্ছা হয় ক্লিওপ্যাট্রার রূপ ও গুণ বর্ণনার কথা শুনেন। আমিও এ সম্বন্ধে অনুসন্ধিৎসা মিটাইতে অনেকগুলি পুস্তক পড়িয়াছি। তিনি বড়ই সুগঠন ছিলেন—রং কিন্তু তত উজ্জ্বল ছিল না। আর এত যে আকর্ষণ করিবার ক্ষমতা ছিল তা তাঁহার মানসিক গুণেরই কারণে। তিনি অতি বুদ্ধিমতী, সুচতুরা ও মধুরভাষিণী ছিলেন। মিষ্ট কথার মত তো এত আর কোনও