এখন সেই এণ্টনী রোম নগরের নাম শুনিলে বলিয়া উঠিতেন— “Grates me” অর্থাৎ ও কথা আমার কাণে বড়ই কর্কশ লাগে। রাণী ক্ষণে ক্ষণে কত রকমেই ভাব পরিবর্ত্তন করিতেন। কখনও সরস মধুর ভাব, কখনও বা রুদ্রমূর্ত্তি; কার্য্যসাধনে সর্ব্বদা ঠিক সময়ে ঠিক ভাবই আসিত।
রাণী যখন এণ্টনীর সহিত প্রথম সাক্ষাতে বিচারে জয়লাভ করিয়া দেশে ফিরিতে চাহিলেন, বিচারপতিকেও সঙ্গে লইবার জন্য বীরাঙ্গনা কাব্যের নিম্নোক্ত ভাবেই মধুর সম্ভাষণ করিয়াছিলেন—
“কায়মন প্রাণ আমি সঁপিব তোমারে
ভুঞ্জ আসি রাজভোগ দাসীর আলয়ে।”
আবার রোমরাজ্য হতে কোন লোক এণ্টনীর সঙ্গে দেখা করতে আসবে ইহা তাঁর একান্ত ইচ্ছা নয়। সেই নিমিত্ত সেখান হইতে কোনও দূত আসিলেই এণ্টনীকে গঞ্জনা দিয়া বলিতেন—
“ওই বুঝি তোমার স্ত্রী ঝগড়াপ্রিয়া “ফুলভিয়া” (Fulvia) তোমাকে ফিরায়ে নিয়ে যাবার জন্য রোম থেকে লোক পাঠাইয়াছেন।”
এরূপে সরল ও দৃঢ়ভাবে এণ্টনীর আকর্ষণ আরও দৃঢ়তর হইত।
ক্লিওপ্যাট্রার অপ্রিয় জানিয়া তিনিও স্বদেশী লোক দেখিলে জ্বলিয়া উঠিতেন। রোম হইতে কোনও দূত যদি রোমের দুরবস্থার কথা এণ্টনীকে বলিতে আসিত তিনি অমনি বিরক্ত হইয়া বলিতেন—“এ কথা এখন দারুণ অপ্রিয় লাগে। রোমনগর টাইবার নদীর অতল জলে ডুবিয়া যাক তাতেও আমার এতটুকু ক্ষতি বৃদ্ধি নাই।”
“Let Rome in Tiber melt.”